আধুনিক প্রযুক্তির অভাবে নৌ-দুর্ঘটনা বাড়ছে

সারাদেশে প্রায় ২৩০টি রুটে অসংখ্য নৌযান যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করলেও এগুলোর অধিকাংশেরই নেই আধুনিক প্রযুক্তি। এতে ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা। বর্তমানে লঞ্চে জিপিএস, নদীর তলদেশের গভীরতা মাপার জন্য ইকো সাউন্ডার, কুয়াশার জন্য ফগলাইট, জাহাজ দ্রুত নিয়ন্ত্রণের জন্য ইলেকট্রিক হুইল ব্যবস্থার সংযোজন করার কথা থাকলেও অনেক নৌযানেই এগুলো নেই। এছাড়া মাঝনদীতে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম মোবাইল নেটওয়ার্ক সব সময় সচল থাকে না। ফলে অনেক সময় জরুরি যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব হয় না। এতে করে ঢাকা-বরিশাল নৌ রুটসহ বিভিন্ন রুটে লঞ্চে লঞ্চে সংঘর্ষ কিংবা বাল্কহেড-কার্গোর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণহানি ঘটলেও তাত্ক্ষণিক খবর জানা যায় না।

একাধিক লঞ্চের প্রথম শ্রেণির মাস্টাররা জানান, নৌপথে শুধু লঞ্চই চলাচল করে না, কার্গো ভ্যাসেল, অয়েল ট্যাংকার, বাল্কহেডসহ নানা ধরনের নৌযান দিন-রাতে সমানতালে চলাচল করে। এগুলো ভিএইচএফ, জিপিএস, ইকো সাউন্ডার, ফগ লাইট, হাইড্রোলিক ও ইলেকট্রনিক হুইলসহ শতভাগ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর না হওয়ায় ঘটছে অহরহ দুর্ঘটনা। অত্যাধুনিক এমভি মানামী লঞ্চের মাস্টার মানিক শরিফ জানান, সব নৌযানে আধুনিক সরঞ্জামাদি ব্যবহার না করায় দুর্ঘটনা বেড়ে চলেছে।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি নির্মিত বিলাসবহুল হাতে গোনা কয়েকটি লঞ্চ ছাড়া অপর যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোতে আধুনিক কোনো সরঞ্জামের ব্যবহার নেই। পণ্যবাহী বিভিন্ন ধরনের নৌযানগুলোতেও নেই কোনো ধরনের আধুনিক যন্ত্রপাতি। এছাড়া বর্তমানে ভিএইচএফ সুবিধা না থাকায় এক নৌযানের মাস্টার অন্য নৌযানে মাইক দিয়ে বার্তা দেন। মাইকের বার্তা এক লঞ্চ থেকে অপর লঞ্চে না পৌঁছানোয় ঘটে দুর্ঘটনা।

সর্বশেষ গত রবিবার গভীর রাতে মেঘনা নদীর মাঝেরচর নামক স্থানে ঢাকা-বরিশাল রুটে যাত্রীবাহী কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চের মাঝ বরাবর ধাক্কা দেয় ঢাকা-হুলারহাটগামী ফারহান-৯ লঞ্চ। এতে কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চের যাত্রী মাহমুদা (২৪) ও তার ছেলে মুমিন খান (৭) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হন আরো ১০ যাত্রী।

এদিকে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দেশের সাতটি নৌবন্দর ও নৌযানগুলোতে ভিএইচএফ রেডিও (very high frequency) প্রযুক্তি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর মোহাম্মদ মাহাবুব-উল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, নৌবন্দরগুলো আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিআইডব্লিউটিএর অধীন চলাচলরত নৌযানগুলোতে ভিএইচএফ রেডিও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সে লক্ষ্যে নৌবন্দরগুলোতে ভিএইচএফ স্টেশন বসানোর প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্নের পথে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ভিএইচএফ চালু হলে প্রতিটি নৌবন্দরের সঙ্গে নৌযানের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব হবে। এছাড়া যে সব নৌযানে ভিএইচএফ প্রযুক্তি থাকবে সে সব নৌযানের মাস্টার, ড্রাইভার অপর নৌযানের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে পারবে। বন্দরের সঙ্গেও নৌযানের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ নিশ্চিত করা যাবে।