গাজীপুরের কালীগঞ্জে মো. মোবারক হোসেন (৩০) নামের এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হাসপাতালের দুই কর্মচারী আহত হন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, ভুল চিকিত্সায় তার মৃত্যু হয়েছে। মোবারক কালীগঞ্জ পৌর এলাকার বড়নগর গ্রামের মোজ্জামেল হকের ছেলে। তিনি স্থানীয় তোয়ালে কারখানায় শ্রমিকের কাজ করতেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সকাল পৌনে ৯টার দিকে বুকের ব্যথা নিয়ে মোবারক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হতে আসেন। এ সময় জরুরি বিভাগের চিকিত্সক মুশফিকুস সালেহীন তাকে প্রাথমিক চিকিত্সা প্রদান করেন। পরে রোগীর উন্নত চিকিত্সার জন্য তাকে হূদরোগ বিশেষজ্ঞ দেখাতে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু রোগী পক্ষের লোকজন তাকে নিয়ে বাড়ি চলে যায়। এর ঘণ্টাখানেক পর বুকের ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় তাকে পুনরায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন। চিকিত্সা দেওয়ার সময় রোগী বেড থেকে পড়ে যায় এবং রক্ত বমি করতে থাকে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি বিভাগের চিকিত্সক তার উন্নত চিকিত্সার জন্য ঢাকার হূদরোগ ইনস্টিটিউটে প্রেরণের পরামর্শ দেন। দুপুরের দিকে রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনা রোগীর পরিবারে জানাজানির পর পরই একদল লোক হাসপাতাল ভাঙচুর শুরু করে। তারা হাসপাতালের ফুলের টব, থাইগ্লাস, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিত্সক (আরএমও) সঞ্জয় দত্ত বলেন, হাসপাতালের সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ভাঙচুরকারী কয়েকজন শনাক্ত করেছি। বাকিদের শনাক্ত করা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে থানায় হবে। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম মিজানুল হক জানান, অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।