টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির অডিটে নির্ধারিত পাওনাবাবদ মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটা প্রথম কিস্তির ২৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা জমা দিয়েছে। বিটিআরসির চেয়ারম্যান জহুরুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বকেয়া পাওনা পরিশোধ শুরু করায় রবির জন্য অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রদান বন্ধের সিদ্ধান্ত শর্তসাপেক্ষে স্থগিত করা হবে। শর্ত হচ্ছে—আগামী ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাদের এনওসি প্রদান অব্যাহত থাকবে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এর মধ্যে তৃতীয় কিস্তির টাকা দিলে কোনো সমস্যা নাই; কিন্তু টাকা না দিলে আবারও এনওসি প্রদান বন্ধ করা হবে। একইভাবে গ্রামীণফোনও যদি আদালতের নির্দেশনা মেনে বকেয়া পাওনা পরিশোধ শুরু করে তাহলে তাদেরও এনওসি বন্ধের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হবে। বিটিআরসি সব পদক্ষেপ নেবে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী।
গত ৫ জানুয়ারি হাইকোর্ট রবিকে বিটিআরসির অডিটে নির্ধারিত মোট পাওনা ৮৬৭ কোটি টাকার মধ্যে ১৩৮ কোটি টাকা পাঁচ মাসের সমান কিস্তিতে পরিশোধের নির্দেশ দেয়। বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী বকেয়া পরিশোধ শুরু করায় রবি আবারও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, নেটওয়ার্কের কারিগরি সক্ষমতা হালনাগাদ করা, যন্ত্রপাতি আমদানি, নতুন প্যাকেজ চালু করতে পারবে। এতদিন এনওসি বন্ধের সিদ্ধান্তের কারণে দেশের তৃতীয় শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর রবির এসব জরুরি কাজ বন্ধ ছিল। রবির বকেয়া পাওনা পরিশোধ শুরুর মধ্য দিয়ে গত প্রায় আট মাস ধরে টেলিযোগাযোগ খাতে চলা অচলাবস্থার অবসান হতে চলেছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ দিকে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত বকেয়া পাওনার কিস্তি প্রদান শুরু করেনি গ্রামীণফোন। গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসির অডিট নির্ধারিত মোট পাওনার পরিমাণ ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। এ পাওনাকে অযৌক্তিক দাবি করে গ্রামীণফোন আইনি লড়াইয়ে গেলে সর্বোচ্চ আদালত গ্রামীণফোনকে তিন মাসের মধ্যে বকেয়া পাওনার ২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি তিন মাসের মেয়াদ শেষ হবে।