ইরানের সঙ্গে করা আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইরান পরমাণু চুক্তি লংঘন করছে এই অজুহাতে ইইউভুক্ত তিন দেশ ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি গতকাল যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, চুক্তি ভাঙার ইচ্ছা নেই, তবে ইরানকে পরমাণু চুক্তি মেনে চলতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো যুক্তি মানা হবে না। আর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে নতুন চুক্তির কথা বলেছেন তাতেই সায় দিয়েছেন। খবর দ্য গার্ডিয়ান ও আল-জাজিরা’র
২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ছয় জাতির পরমাণু চুক্তি হয়েছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি গতকাল নিজেদের নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। চুক্তি থেকে ইইউ সরে দাঁড়ালে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা ইরানের ওপর পুনর্বহাল করা হবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পরমাণু চুক্তি বাতিল হয়ে যেতে পারে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। গতকাল এক যৌথ বিবৃতিতে দেশ তিনটি জানিয়েছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কথা বলে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করছে। কিন্তু এটা হতে পারে না। আমরা তো চুক্তির সঙ্গে আছি। ক্রিসমাসের আগেই তিন দেশ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা কিংবা ইউক্রেনের বিমান ভূপাতিত করার ঘটনার সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের সম্পর্ক নেই বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, ইরানের পরমাণু সমঝোতা হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী, স্পষ্ট ও নির্ভরযোগ্য চুক্তি। ইরানর পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, ইরান চুক্তিতে থাকতে অঙ্গীকারবদ্ধ। কিন্তু ইইউকেও দায়িত্ব পালন করতে হবে। আর চুক্তি থেকে সরে গেলে এর পরিণামের কথাও চিন্তা করতে হবে।
ইরান এখন যে পথে এগোচ্ছে, তাতে আর এক বছরের কম সময়ের মধ্যেই পারমাণু বোমা বানিয়ে ফেলবে। জার্মানি, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স ও ব্রিটেনসহ পরমাণু চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী ছ’টি দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। ২০১৫ সালে ইরান বিশ্বের ছ’টি দেশের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে আসতে সম্মত হয়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে নতুন চুক্তির কথা বলেছেন তাতে সমর্থন দিচ্ছেন। তিনি বলেন, আমরা যদি বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটাতে চাই তাহলে নতুন চুক্তির দিকে যেতে হবে।