অভিনয়ের পাখি

উপস্থাপনার মাধ্যমেই টিভি মিডিয়ায় যাত্রা শুরু তার। আর অল্প দিনের ব্যবধানে নিজের যোগ্যতা দিয়ে পুরোনোদের ভিড়ে স্বতন্ত্র জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি হলেন অভিনয়ের সারথি মৌটুসী বিশ্বাস। অভিনয়ের প্রতি একটা টান তিনি সব সময় অনুভব করেন। তার বর্তমান ব্যস্ততার কথা জানাচ্ছেন ইমরুল নূর

কাজের প্রতি শ্রদ্ধা আর সময়ের ব্যাপারে সচেতনতাই তাকে এতদূর নিয়ে এসেছে। নাটকের কোনো স্ক্রিপ্ট হাতে এলে তখন কাজটা নিয়ে স্বপ্ন কেমন থাকে, জানতে চাইলে মৌটুসী বলেন, ‘নতুন কাজ হাতে এলে অবশ্যই তা নিয়ে একটা স্বপ্ন তৈরি হয়। তবে আমাদের দেশে মিডিয়ায় নিজের মতো করে কাজ করতে চাইলেও তা সম্ভব হয় না। তারপরও চরিত্র নিয়ে ভাবি। শুটিংয়ের সময় চরিত্রটা নিজের মধ্যে লালন করে ভালো কিছু করার চেষ্টা করি।’ ধারাবাহিক নাটক নিয়েই বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন টিভি পর্দার এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী। একক নাটক নিয়ে তার মধ্যে কোনো আগ্রহ নেই। তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় ধারাবাহিক নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম, এখনো আছি। আর আমি এটা নিয়েই বেশ খুশি। বলতে গেলে আমার পরের জেনারেশনের যারা, তারা এখন একক নাটক নিয়ে ব্যস্ত। তাদের ভিড়ে অন্যরা কেউ সুযোগ পায় না। এটাই হয়ে আসছে এতদিন ধরে। কিন্তু এটা নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র আফসোস নেই।’ তিনি আরো বলেন, ‘একজন শিল্পী হিসেবে আমার কাজ অভিনয় করে যাওয়া আর আমি সেটাই করছি। একক নাকি ধারাবাহিক—এগুলো ভাবছি না। একক করতে পারলাম কি পারলাম না, সে নিয়ে আমার হা-হুতাশ নেই। এখন যেভাবে চলে যাচ্ছে, আগামীতেও সেভাবেই চলব।’ তিনি অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত আছেন বেশ কয়েক বছর। এই সময়ে অভিনয় করেছেন অসংখ্য মানসম্পন্ন একক ও ধারাবাহিক নাটকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘৫১বর্তী’, ‘তোমার অপেক্ষায়’, ‘মামুলি একটা মানুষ’, ‘পুতুল খেলা’, ‘কাঠগড়া’ প্রভৃতি। নাটকের পাাশাপাশি তিনি দুটি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। এগুলো হলো মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পরিচালনায় ‘ব্যাচেলর’ ও রাফায়েল আহমেদের ‘৬৯, পাতলা খান লেন’। শুধু অভিনয় নয়, মডেলিংয়ের নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন মৌসুমী। এছাড়া মৌটুসী বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রেও মডেল হয়েছেন। সেই সঙ্গে চ্যানেল টোয়েটিন্ট ফোরে প্রচারিত ট্রাভেল শো ‘সার্কেল দ্য গ্লোব’-এর বেশ কয়েকটি পর্বে উপস্থাপনা করেছেন। এখন নাটকে গল্পের মান অনেকটা প্রশ্নবিদ্ধ, এ বিষয়টা স্বীকার করে মৌটুসী বলেন, ‘এটা সত্য, আমি যে ধারাবাহিকগুলো করছি, সেগুলোর একেকটা একেক রকম। তারপরও ভালো গল্প নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখন অনলাইন প্লাটফর্ম এসেছে। যার কারণে দর্শক এখন টেলিভিশনের চেয়ে ইউটিউবে ঝুঁকছে বেশি। তাছাড়া ইউটিউবে যেসব কন্টেন্ট প্রচারিত হচ্ছে, সেগুলোর বেশির ভাগই মানহীন এবং পরিবার নিয়ে দেখার মতো না।’ এই বিষয়ে নিজের মতবাদ জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সবাইকে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়েই চলতে হয়। সেদিক থেকে ইউটিউব এখন আধুনিক যুগের প্ল্যাটফর্ম।  এখন সবার হাতে হাতে মুঠোফোন, যার যখন যেটা ভালো লাগছে, সেটাই দেখছে। আর কে কী দেখবে সেটা তার নিজস্ব ব্যাপার। ইউটিউব ছাড়াও এখন নেটফ্লিক্স, আইফ্লিক্স রয়েছে। সেখানেও কিন্তু অনেক রকমের কন্টেন্ট রয়েছে। সো, যার যেটা ভালো লাগবে দেখবে, নাহলে দেখবে না।’ নিজেকে এখন যেভাবে রেখেছেন আগামী দিনেও সেভাবেই থাকতে চান। নিজেকে ধরে রেখেছেন নাটকেই। সিনেমা নিয়ে কেন পরিকল্পনা নেই? তিনি বলেন, ‘সিনেমা নিয়ে আমার কোনো পরিকল্পনা নেই। আর পরিকল্পনা করতে গেলে নিজেকে প্রযোজক হয়ে যেতে হবে। এছাড়া কোনো উপায় নেই। তাই সিনেমা নিয়ে ভাবছি না।’