ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অদ্বৈত সম্মাননা-২০২০ গ্রহণ করলেন ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক, বিশিষ্ট লোকসংস্কৃতি ও অদ্বৈত মল্লবর্মণ গবেষক ড.নির্মল দাশ। গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে অমর কথাশিল্পি অদ্বৈত মল্লবর্মণের স্মরণে আয়োজিত অদ্বৈতমেলায় তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। তিতাস আবৃত্তি সংগঠন কর্তৃক আয়োজিত সম্মাননা প্রদান পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন পৌর মেয়র মিসেস নায়ার কবীর। ত্রিপুরার গণমানুষের কবি দিলীপ দাসের সভাপতিত্বে ও তিতাস আবৃত্তি সংগঠনের সমন্বয়ক রোকেয়া দস্তগীর, সহকারি পরিচালক বাছির দুলাল এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বিশেষ অতিথি নবীনগর পৌরসভার মেয়র এড.শিবশংকর দাস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আরজু, প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক দীপক চৌধুরী বাপ্পী, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক এসআরএম উসমান গনি সজিব ও তিতাস আবৃত্তি সংগঠনের পরিচালক মো.মনির হোসেন। সম্মানন পর্বে ড. নির্মল দাসকে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা ক্রেস্ট, শাল ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। এই পর্বে আবৃত্তি পরিবেশন করেন পশ্চিমবঙ্গের সৌরেন চট্টোপাধ্যায়, স্বাগতা চট্টোপাধ্যায়, বাংলাদেশের কাজি মাহতাব সুমন, রাশেদ হাসান, আহসানউল্লাহ তমাল, সৈয়দ সাইমুম আনজুম ইভান,সুকান্ত গুপ্ত ও আরিফ কাদরী। এসময় সম্মাননার জবাবে ড.নির্মল দাস বলেন, অদ্বৈত মল্লবর্মণের তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসটি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের কালজয়ী ও অমর সৃষ্টি তবে শুধুমাত্র এটি নিয়ে আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকলে তাকে নিয়ে আলোচনা অসম্পূর্ণ থাকবে। অদ্বৈত মল্লবর্মণকে বহুমাত্রিক দিক থেকে বিবেচনায় নিয়ে আলোচনা করতে হবে কারণ তিনি ছিলেন বহুমাত্রিক সৃজনশীল মানুষ।
তিনি আরো বলেন, অদ্বৈত মল্লবর্মণ নিম্নবর্গের মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে তার সৃষ্টিশীলতাকে এগিয়ে নিয়েছেন। তিনি আরো বলেছেন,আমাকে যে সম্মান তিতাস আবৃত্তি সংগঠন দিয়েছে তাতে আমি অভিভূত। আমাকে দেয়া অদ্বৈত সম্মাননা আমি মাথায় তুলে রাখবো।
গত ১-৩ জানুয়ারি তিতাস আবৃত্তি সংগঠন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে তিনদিনের অদ্বৈতমেলার আয়োজন করে। ১ জানুয়ারি বিকালে এ অদ্বৈতমেলার উদ্ধোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি। অদ্বৈতমেলায় প্রতিদিনের কর্মসূচীর মধ্যে ছিলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক পরিসরে লোকগান, লোকনাচ, আবৃত্তি,রচনা লিখন ও ছবি আঁকার প্রতিযোগিতা এবং দেশী-বিদেশী শিল্পিদের পরিবেশনায় আবৃত্তি, লোকগান, লোকনাচের আসর। এ মেলায় ১৭ টি স্টলের দেশজ পসরা সাধারণ মানুষকে আকর্ষণ করে। প্রতিদিন শতশত মানুষের সমাগম ঘটে এ মেলায়। ৩ জানুয়ারি রাতে জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খানের পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে অদ্বৈতমেলার সমাপ্তি ঘটে।