ভারতকে আক্ষরিক অর্থে মাটিতে পেড়ে আনল অস্ট্রেলিয়া।
বাংলাদেশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাটিতে একটার পর একটা সিরিজ জিতে আকাশে উড়ছিল বিরাট কোহলির ভারত। সেই দলকে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১০ উইকেটের ব্যবধানে হারাল অস্ট্রেলিয়া। এই ম্যাচের পর ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলির উপলব্ধি—এই অস্ট্রেলিয়া খুব কঠিন দল; এদের বিপক্ষে ভুল করলে এরকমই হবে।
অস্ট্রেলিয়ার এই দলটার জন্য অবশ্য ভারতকে ভারতের মাটিতে হারানোটা নতুন অভিজ্ঞতা নয়। বিশ্বকাপের আগেও তারা সিরিজ হারিয়ে গেছে ভারতকে। এই নিয়ে টানা চার ম্যাচে ভারতকে ভারতের মাটিতে হারাল অস্ট্রেলিয়া। সেই সাথে ওয়াংখেড়েতে এটা ভারতের টানা তৃতীয় হার ছিল। এ ছাড়াও এই ম্যাচে ছোটোখাটো কিছু রেকর্ড হয়েছে।
কোনো উইকেট না হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার এই ম্যাচ জেতাটা ছিল দ্বিতীয় বৃহত্তম জয়। কোনো উইকেট না হারিয়ে বৃহত্তম রান তাড়া করে জেতার বিশ্বরেকর্ডটা বাংলাদেশের বিপক্ষে; ২০১৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ২৭৯ রান করে জিতেছিল বিনা উইকেটে।
ভারতের বিপক্ষে এটা কোনো দলের মাত্র পঞ্চম ১০ উইকেটের জয়। শেষবার ভারত ১০ উইকেটে হেরেছিল ২০০৫ সালে।
এই দারুণ জয়ের পর ম্যাচের অন্যতম নায়ক ডেভিড ওয়ার্নার বলছিলেন, কৃতিত্বটা আসলে বোলারদের, ‘আমি মনে করি, আমার রানের ক্ষুধাটা সবসময়ই এরকম ছিল। কিন্তু এই জয়টা আসলে আমাদের বোলারদের দারুণ একটা প্রচেষ্টার ফল। ভারতকে ২৫৫ রানে আটকে রাখাটা বিরাট ব্যাপার। আমরা ওদের পাওয়ার প্লেতে আটকে রাখতে চেয়েছিলাম। আর শেষ দিকে আমরা ব্যাট হাতে খুব ক্লিনিক্যাল ছিলাম।’
অধিনায়ক ও ওয়ার্নারের উদ্বোধনী জুটির সঙ্গী অ্যারন ফিঞ্চও এই জয়ের পেছনে বোলারদের অনেক অবদান দেখছেন। তিনি বলছিলেন, ‘আমি মনে করি, আমরা বল হাতে মাঝের ওভারগুলোতে দারুণ লড়াই করেছি। সেটাই আজকের বড়ো ব্যাপার ছিল। লোকেশ রাহুল ও শিখর ধাওয়ান যেভাবে ব্যাট করছিল, রানটা অনেক বড়ো হতে পারত।’
এই পরাজয়ের পর কোহলি বলছিলেন, এই অস্ট্রেলিয়া খুব শক্ত একটা দল। তাদের বিপক্ষে খুব ভালো না করলে ম্যাচ হারতেই হবে, ‘আমরা তিন বিভাগেই স্রেফ উড়ে গেছি। এটা খুব শক্তিশালী একটা অস্ট্রেলিয়া দল। আপনি যদি খুব ভালো না খেলেন, তাহলে এরা আপনাকে আহত করবেই। আমরা একটা সময় তাদের বোলারদের একটু বেশি সমীহ করে ফেলেছি। ফলে রানটা বড়ো করতে পারিনি। ওখান থেকে ফিরে আসাটা কঠিন ছিল।’
এই ম্যাচের পর আবারও সেই ভারতের চার নম্বরে ব্যাটিং নিয়ে কথা শুরু হয়েছে। এই ম্যাচে কোহলি নিজে চার নম্বরে ব্যাট করেছেন। তিনি বলছিলেন, লোকেশ রাহুলকে আরেকটু ওপরে ব্যাট করতে দেওয়ার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।