প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের নৈপুণ্যে বাংলাদেশ খুব ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে। তার গৃহীত পদক্ষেপগুলোর দরুন বাংলাদেশ থেকে দারিদ্র্যের হার অনেকটাই কমে গেছে। ২০১৮র তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ২১ দশমিক ৮ শতাংশ। যা আগের বছরের তুলনায় অনেকাংশে কম। দারিদ্র্য যেমন কমেছে তেমন বেকারত্বও কমেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে যে দারিদ্র্য আছে তাও পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনতে হবে। তবেই বাংলাদেশ উন্নত দেশের কাতারে শামিল হতে পারবে। আর এই কাজ শুধু সরকারের একার নয়, প্রত্যেক স্বাবলম্বী নাগরিকেরই এই উদ্যোগে অংশগ্রহণ করা উচিত। তরুণদেরও পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই। সরকার, বিত্তশালী ও তরুণ সমাজ মিলে সম্মিলিত উদ্যোগ নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আসলে এটি নতুন কোনো উদ্যোগ নয়। এই কাজ আমরা আগেও করেছি এবং এখনো করছি। কিন্তু সম্মিলিভাবে নয়, ব্যক্তিগত কিংবা সাংগঠনিক উদ্যোগে, যেমন: দুই ঈদ এবং পূজোর সময় পথশিশু এবং দারিদ্র্যপীড়িতদের আমরা নতুন জামা-কাপড়, খাবার বিতরণ করে থাকি। শীতের সময় উষ্ণ ওমবিশিষ্ট কাপড় নিয়ে শীতার্তদের পাশে দাঁড়াই। এ রকম বিভিন্ন উদ্যাপন উপলক্ষ্যে আমরা দরিদ্রদের ভিক্ষা বিতরণ করি। এই ভিক্ষা বিতরণ আসলে দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল বয়ে আনবে না। এটা সাময়িকভাবে আমাদের হাসির সঙ্গে তাদের হাসিখুশির সম্মিলন ঘটাতে পারে কিন্তু চিরস্থায়ীভাবে নয়। এই ভিক্ষা গ্রহণ করার কয়েকদিন পর আবার তাদের পথে নামতে হয় অথবা দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়। কিন্তু এই উদ্যোগটাই যদি আমরা সম্মিলিতভাবে নেই তবে একটু দেরি হলেও দীর্ঘমেয়াদি ফল বয়ে আনা সম্ভব। ধর্মেও ভিক্ষার চেয়ে কাজকে বেশি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কবিতার একটি পঙক্তিতে তার প্রমাণ মেলে, ‘নবীর শিক্ষা কর না ভিক্ষা মেহনত কর সবে’।
ইথিওপিয়ার সাবেক সম্রাট হাইলে সেলাসি এক সাক্ষাত্কারে একটি কথা বলেছেন, ‘আসলে ভিক্ষা বিতরণের মধ্যদিয়ে কল্যাণকর কিছু হয় না। দারিদ্র্যের যে সমস্যা তা সমাধানের একমাত্র উপায় হলো কাজ করা’। দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য দরিদ্রদের কাজের ব্যবস্থা করতে হবে। এখন প্রশ্ন হলো যাদের দুই বেলা দুমুঠো ভাত জোগাড় করাই যাদের পক্ষে কষ্টকর তারা ভালো কর্মসংস্থান খোঁজ করে কাজ করবে কী ভাবে ? আগেই বলেছি আমরা দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের জন্য এখন যে কাজ আলাদা আলাদা করছি সেই কাজটা একত্র হয়ে করলেই এই বোঝা হালকা করা সম্ভব। এই সম্মিলিত উদ্যোগ সরকারিভাবে প্রথম শুরু করতে হবে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো, দানশীল বিত্তবানদের একত্র করে কাজ শুরু করে সামনে এগোলে একটু বিলম্ব হলেও দরিদ্রদের নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী একটি বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। তিন দলকে একত্র করাটা বেশ জটিল কাজ কিন্তু সরকার যদি উদ্যোগ নেয় তবে সহজেই সম্ভব হবে। এই সম্মিলিত উদ্যোগে দরিদ্রদের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করে তাদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কর্মসংস্থানে দায়িত্ব পালনে যোগ দেওয়ার আগে তাদেরকে যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। যেটা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা খুব ভালোভাবেই করতে পারবে।
তৃতীয়ত, কর্মসংস্থানে যোগদানের পরে তাদের কাজ এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রতি তীক্ষ্ন দৃষ্টি রাখতে হবে। আমাদের লক্ষ্য যদি থাকে দারিদ্র্য বিমোচন করা কিন্তু কাজ না শিখিয়ে, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে আমরা যদি বছরের পর বছর এভাবে ভিক্ষা বিতরণ আর সাহায্য করে যাই তবে আমাদের লক্ষ্য কখনোই সফল হবে না। মাঝে মাঝে শুধু আমাদের করুণা বিস্তার লাভ করবে। দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি এই সম্মিলিত উদ্যোগটিও যদি নেওয়া হয় তবে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি ফল বয়ে আনবে বলে আশাবাদী।
n লেখক :শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়