নিরাপদ বাংলাদেশ চাই

নিরাপদ বাংলাদেশ চাই। তিন শব্দের একটি কথা মাত্র। কথাটি তিন শব্দের হলেও এর আবেদন বিস্তৃত। আমরা যারা বাংলাদেশের মানুষ তাদের প্রত্যেকেরই একটা মূল চাওয়া, আমরা সবাই নিরাপদে থাকতে চাই। বাবা-মা চান সন্তান নিরাপদে থাকুক। সন্তান চায় বাবা-মা নিরাপদে থাকুক। এমনি করে এক জায়গার আপনজন চান আরেক জায়গার আপনজন নিরাপদে থাকুক। আমরা কেউই অনিরাপদে থাকতে চাই না; কিন্তু এ তো গেল আমাদের নিজেদের নিরাপদে থাকার যে একটা চাওয়া সেই চাওয়ার কথা। যদি আমাদের এদেশ অনিরাপদ হয়ে যায়? কথাটি খানিক অন্যভাবে সবিস্তারে বললে, গোটা বাংলাদেশ অনিরাপদ হয়ে গেলে আমরা নিজেরা নিরাপদে আছি তখন আর তা বলতে পারি না।

আমি জানি না আমার কথাগুলো পাঠকের কেমন লাগছে। কেউ হয়তো ভেবেও বসতে পারেন, বাংলাদেশের আবার কী হলো? সত্যি কথা বলতে কি, আমরা যারা বাংলাদেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে জানি তাদের স্বপ্ন পূরণ হওয়ার পথেই রয়েছে। কেননা বাংলাদেশ তার লক্ষ্যের দিকেই এগিয়ে চলেছে। লক্ষ্য একটাই। পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ হবে উন্নত এক সোনার বাংলা। আর ঠিক এই জায়গাটিতেই আমার একটি কথা। খারাপ কোনো কিছুই যেন উন্নত বাংলাদেশ হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে না পারে। বিশ্বে বাংলাদেশের যে একটা মর্যাদা তা যাতে কোনো কারণে ম্লান না হয়। জঙ্গিবাদের মতো একটা বিরাট চ্যালেঞ্জকে আমরা মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বের জোরেই তা সম্ভব হয়েছে। না হলে বাংলাদেশ হয়তো এতদিনে জঙ্গিদের দেশই হয়ে যেত! প্রিয় পাঠক, আমার এমন কথার পরিপ্রেক্ষিতে একবার পেছনের স্মৃতিতে ফিরে যান। দেশের জায়গায় জায়গায় জঙ্গি-সন্ত্রাসের কি ঘটনাগুলোই না ঘটতে শুরু করেছিল। খোদ রাজধানী ঢাকার গুলশানের মতো জায়গায় (হলি আর্টিজান বেকারিতে) জঙ্গিরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়। সেই দুরবস্থা থেকেও বাংলাদেশ আজ নিরাপদ হয়েছে। বাংলাদেশকে উন্নত সোনার বাংলা হিসেবে গড়তে এরকম যত চ্যালেঞ্জই বাংলাদেশের সামনে আসুক বাংলাদেশকে তা মোকাবিলা করতে হবে। বাংলাদেশকে মোকাবিলা করতে হবে বলতে আমাদেরকে মোকাবিলা করতে হবে।

প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললেই ধর্ষণের ঘটনা চোখে পড়ে। নারীর ক্ষমতায়নে যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকা এখন সর্বজন প্রশংসিত, তার নেতৃত্বের বাংলাদেশে ধর্ষণের ঘটনা এখনো কেন শূন্যের কোটায় নামছে না? জঙ্গিবাদ যেভাবে থামানো গেছে, ধর্ষণের ঘটনা বন্ধ করতেও সে ধরনের কোনো এলিট পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর তো সহ্য হয় না। কথা নেই বার্তা নেই রাস্তা থেকে একজনের মন চাইল আর তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে ফেলল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই শিক্ষার্থীর কষ্টটা আমরা কি কেউ ঠিকমতো অনুভব করতে পেরেছি? কেমন আছে সেই মানুষটি? অত্যুক্তি হবে না বললে, প্রতিনিয়তই আমাদের বোনরা (যারা ধর্ষণের শিকার হচ্ছে) এমন কষ্ট সহ্য করেই চলেছে। এ ধরনের ঘটনা আমাদের পুরা পুরুষ সমাজের জন্যই গ্লানির। এ গ্লানি থেকে যেদিন সত্যি সত্যি মুক্তি মিলবে সেদিনই বাংলাদেশ নিরাপদ বাংলাদেশের নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করবে। আমার এ প্রত্যাশা পূরণ হবে কি?  

n  লেখক :আইন বিভাগ, গণ বিশ্ববিদ্যালয়,

সাভার, ঢাকা।