জবি প্রক্টরের পিএচডি জালিয়াতির সংবাদ প্রকাশ করায় পত্রিকায় আগুন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রক্টর মোস্তফা কামালের পিএইচডি জালিয়াতির সংবাদকে মিথ্যা আখ্যা দিয়ে কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ক্যাম্পাসে পুড়িয়েছে তার বিভাগের অনুসারী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের কর্মীরা। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে মিছিল করে রফিক ভবনের সামনে পত্রিকা পোড়ায় তারা। এদিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রক্টরের পিএইচডি ডিগ্রির অনিয়মে প্রশাসনের স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও জরুরি তদন্তের দাবি জানিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল ঐক্যজোট ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান বলেন, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম কানুন জানেন না এমন ‘মূর্খ সাংবাদিকরাই’ এধরনের সংবাদ লিখতে পারে।

বিবৃতিতে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতৃবৃন্দ বলেন, গত ১৪ জানুয়ারি দেশের কয়েকটি জাতীয় দৈনিকসহ অনলাইন পত্রিকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে বিধি-বহির্ভূতভাবে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জনের গুরুতর অভিযোগের সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ও দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের প্রেক্ষিতে কোন রকম স্পষ্ট ব্যাখ্যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দেয়নি। উপরন্তু উপাচার্যের পক্ষ থেকে কোন রকম তদন্ত ছাড়াই অভিযোগ উড়িয়ে দেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

প্রগতিশীল ছাত্রজোট নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রক্টরের মতো দায়িত্বশীল পদে অবস্থান করা একজন ব্যাক্তির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অনাকাঙ্ক্ষিত ও উদ্বেগজনক যা সমাজে শিক্ষকদের নৈতিক অবস্থানকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের উচিত এ ঘটনার দ্রুত তদন্ত করে, তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এ সময় তারা প্রক্টরের অবস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে স্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে এ ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও স্পষ্ট প্রশাসনিক ব্যাখ্যা দাবি করেন।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোনায়েম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক তানজিম সাকিব এক যৌথ বিবৃতিতে প্রক্টরের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগকে অনাকাঙ্ক্ষিত এবং উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে প্রশাসন কর্তৃক অভিযোগকে আমলে নিয়ে অবিলম্বে সঠিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন এবং তদন্তকে নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার নিশ্চয়তা চেয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ নেতারাও এই ঘটনার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

জবি সাংবাদিক সমিতির এক প্রতিবাদ বার্তায় সাংবাদিক সমিতির সভাপতির হুমায়ুন কবির ও সাধারণ সম্পাদক লতিফুল ইসলাম বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাসী। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরকে নিয়ে সম্প্রতি কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের যথাযথ প্রমাণ ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই করা। সাংবাদিকদের মূর্খ হিসাবে আখ্যায়িত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সর্ব্বোচ্চ জায়গা থেকে উপাচার্যের এ বক্তব্যে সাংবাদিক সমাজ হতাশ এবং যা কোনভাবেই আশা করে না।

ইত্তেফাক/বিএএফ