নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবন ঘেরাও করতে যাওয়ার পথে রাজধানীর শাহবাগে পুলিশের বাধা পেয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আগামী ৩০ জানুয়ারি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সরস্বতীপূজার দিন ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ ফেলার প্রতিবাদে এবং এটি পরিবর্তনের দাবিতে গতকাল বুধবার ইসি ভবন ঘেরাও করতে চেয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর পৌনে ১টার দিকে বিক্ষোভ মিছিলসহ ঘেরাও কর্মসূচি পালন করতে গেলে শিক্ষার্থীরা শাহবাগে বাধার সম্মুখীন হন। পরে তারা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন।
শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে বাংলামোটর, সায়েন্সল্যাব, মত্স্য ভবন ও টিএসসি থেকে শাহবাগমুখী রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। টানা আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় এসব রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া কোনো যান চলাচল করতে পারেনি। এতে বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। পরে দাবি আদায়ে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে সোয়া ৩টার দিকে অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
অবরোধ চলাকালে জগন্নাথ হল ছাত্র সংসদের ভিপি উত্পল বিশ্বাস বলেন, ‘একইদিনে সর্বজনীন উত্সব সরস্বতীপূজা এবং নির্বাচন কখনো হতে পারে না। এতে উত্সবের আনন্দ হবে না, তাই আমরা চাই এ দিনে যেন নির্বাচন না হয়।’
ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন ইসির উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা (ইসি) নিজে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেন, আমাদের হাইকোর্ট দেখাবেন না। আমাদের হাইকোর্ট দেখালে আপনাদের সুপ্রিম কোর্ট দেখিয়ে ছাড়ব।’ এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘পূজার দিনে নির্বাচন, মানি না মানব না’; ‘৩০ তারিখের নির্বাচন মানি না, মানব না’ বলে স্লোগান দেন। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
ব্যবসায়ীকে মারধর : এদিকে আন্দোলন চলাকালীন শাহবাগে শিক্ষার্থীদের অস্ত্র উঁচিয়ে হুমকি দেওয়ায় মারধরের শিকার হয়েছেন আলিফ রুশদী হাসান মুন (৩৬) নামের এক ব্যবসায়ী। বেলা ৩টার দিকে অবরোধের কারণে রাস্তায় আটকা পড়েন তিনি। এসময় শিক্ষার্থীদের মাঝখান দিয়ে গাড়ি চালিয়ে চলে যেতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়া হয়। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাগিবতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে বিষয়টি হাতাহাতিতে গড়ায়। এসময় তিনি মারধরের শিকার হন। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তিনি মতিঝিল এলাকায় ব্যবসা করেন। রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আলিফের অস্ত্রটি লাইসেন্স করা ছিল। তিনি আন্দোলনকে হুমকিস্বরূপ মনে করেছিলেন। তাই তিনি অস্ত্র বের করেছিলেন।’