ঝালকাঠিতে যুবলীগ নেতা মিলনসহ গ্রেফতার ৪ ১৫টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

ঝালকাঠি জেলা যুবলীগ নেতা সৈয়দ হাদিসুর রহমান মিলনসহ চার জনকে অস্ত্র ও চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে শহরের ডাক্তারপট্টি সড়কে মিলনের বাসায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে রামদা, চাপাতি, জিআই পাইপসহ ১৫টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। একই সঙ্গে সৈয়দ মিলন ও তার তিন সহযোগী কলেজ ছাত্রলীগ সাবেক সভাপতি তরিকুল ইসলাম অপু, সাইফুল ইসলাম এবং সৈয়দ মিলনের বাসার ম্যানেজার মামুন খানকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, শহরের বিকনা এলাকার ব্যবসায়ী কালাম হোসেনের কাছে চাঁদা চাওয়া ঘটনায় গত সোমবার রাতে সাত জনকে আসামি করে মামলার প্রেক্ষিতে এ অভিযান চালান হয়। এরা দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ঝালকাঠিতে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছে বলে পুলিশ জানায়। অপর আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। অপর আসামিরা হলো—মামুনুর রশিদ মামন ওরফে কঠিন মামুন, পিকলু তালুকদার ও পলাশ দাস।

মামলার বাদী কালাম হোসেন হাওলাদার এজাহারে উল্লেখ করেন, আমি একজন ইট, বালু, খোয়া সরবরাহকারী ব্যবসায়ী। আসামিরা এলাকার চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজ। আমার কাছে তারা ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। আমি এ টাকা না দিয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে আসামিরা আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। তাই গত ৫ জানুয়ারি আসামি সৈয়দ মিলন আমাকে ডেকে এলজিইডি কার্যালয়ের ভেতরে নিয়ে মারধর শুরু করে। এ সময় আসামি মামুন ওরফে কঠিন মামুন তার সঙ্গে থাকা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আমাকে গুরুতর জখম করে। অপর আসামিরা আমার সঙ্গে থাকা স্বর্ণ ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। এ বিষয়ে ঝালকাঠি থানার অফিসার ইনচার্জ খলিলুর রহমান জানান, গ্রেফতার হওয়া আসামিদের তথ্য অনুযায়ী পলাতকদের গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ জানান, এ ঘটনায় চাঁদাবাজির মামলা ছাড়াও আসামিদের বিরুদ্ধে আরেকটি পৃথক মামলা হয়েছে।