ভোটে নাশকতার আশঙ্কা, সতর্ক অবস্থানে ইসি

ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে নাশকতার আশঙ্কা করছেন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, ‘পূজা ও ভোট একসঙ্গে’—এই ইস্যুতে কোনো তৃতীয় পক্ষ নাশকতার চক্রান্ত করতে পারে। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসাররা। গতকাল বুধবার ঢাকা দক্ষিণ সিটির রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দক্ষিণের রিটার্নিং অফিসার মো. আবদুল বাতেন ইত্তেফাককে বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নির্বাচন নিয়ে নাশকতার কথা বলেছেন। তবে আমি তাদের সতর্কতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি।’

আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকার দুই সিটির ভোট পেছানোর দাবিতে আন্দোলন চলমান রয়েছে। কেননা, ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি ঢাকা শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পূজা। গত ১০ জানুয়ারি ডিএসসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেন দক্ষিণ সিটির এলাকায় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা উপলক্ষ্যে ব্যাপক জনসমাগম হওয়ায় ভোট পেছানোর সুপারিশ জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন ইসিতে। ইসির সঙ্গে চিঠি চালাচালি ও বৈঠক শেষে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, ৩০ জানুয়ারি ভোট হলে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন এবং সনাতনী জনমনে ক্ষোভ-হতাশার সৃষ্টি করবে। বহির্বিশ্বে দেশ ও জাতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে। নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন না হলে যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, তার দায় আমরা নেব না। উচ্চ আদালতে ভোট পেছানো-সংক্রান্ত রিট খারিজ হলেও একই দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ-সমাবেশ অব্যাহত রেখেছেন। প্রার্থীদের কেউ কেউ ভোট পেছানোর দাবির সমর্থন করেছেন। এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ সিটিতে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সভায় ভোট পেছানোর ইস্যুতে তৃতীয় কোনো পক্ষ নাশকতার চেষ্টা করতে পারে বলে অভিমত দেন। বৈঠকে দক্ষিণ সিটির অন্তর্গত সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা তাদের অবস্থান তুলে ধরেন। একই ইস্যুতে আজ উত্তর সিটির রিটার্নিং অফিসার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

দক্ষিণ সিটির বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ সিটির বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পূজা হবে। ঐ পূজাকে কেন্দ্র করে বিপুল জনসমাগম হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহূত হওয়ায় পূজা আয়োজনে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে। ভোটের আগে পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আশ্বস্ত করে বলা হয়, যেহেতু আদালতে রিট খারিজ হয়ে গেছে, সেহেতু ভোট ৩০ জানুয়ারিই হবে। ভোটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না। ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূজার জন্য আলাদা কক্ষ রাখা হবে। ভোট-পূজা একসঙ্গে হলে কোনো সমস্যা হবে না।

দক্ষিণে ১৬ প্রার্থীকে শোকজ, উত্তরে জরিমানা :দুই সিটিতে আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনায় ক্ষুব্ধ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতিমধ্যে বিধি ভঙ্গে দক্ষিণ সিটিতে ১৬ জন প্রার্থীকে শোকজ করা হয়েছে। আর সিটি করপোরেশনের সহায়তায় নগরীর চারটি জায়গায় প্রার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন নেতা-নেত্রীর ছবি সংবলিত ব্যানার-পোস্টার অপসারণ করা হয়েছে। আগামীতে এ ধরনের কোনো পোস্টার বা ব্যানার পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির রিটার্নিং অফিসার। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটির রিটার্নিং অফিসার আবুল কাসেম ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, আচরণবিধি প্রতিপালনে তিনি নিজেই মাঠে গিয়েছেন। দক্ষিণখানে এক প্রার্থীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানাও করেছেন।