আন্দ্রে রাসেলের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের খবর ক্রিকেট দুনিয়ার অজানা নয়। মিরপুর স্টেডিয়ামের দর্শককুল গতকাল রাতে আবারও এই ক্যারিবিয়ানের ব্যাটের অগ্নিমূর্তি প্রত্যক্ষ করল। তার ব্যাটের আগ্নেয় প্রদাহে পুড়ে ভস্ম হলো চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। রান-বলের অবিশ্বাস্য দূরত্ব পাড়ি দিল রাজশাহী রাসেলের দানবীয় ব্যাটিংয়ে।
গতকাল অধিনায়ক রাসেলের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে চট্টগ্রামকে ২ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠল রাজশাহী। আগামীকাল বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ফাইনালে খুলনা টাইগার্সের বিরুদ্ধে লড়বে পদ্মাপাড়ের দলটি। ২২ বলে অপরাজিত ৫৪ রান (২ চার, ৭ ছক্কা) করা রাসেল ম্যাচ-সেরা হন।
অনেক চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছিল রাজশাহীর রান তাড়ার মিশন। শেষ ১২ বলে দরকার ছিল ৩১ রান। মেহেদী হাসান রানার করা ১৯তম ওভারে দুটি ছক্কা ও দুটি চারে আসে ২৩ রান। শেষ ওভারে ৮ রান তুলতে রাসেল খরচ করেছেন দুই বল। গুণারত্নের করা তৃতীয় বলটি ছিল ওয়াইড। পরের বলটি নো হলেও মিড উইকেট দিয়ে বিশাল ছক্কা মেরে জয় নিশ্চিত করেন রাসেল। ১৯.২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৫ রান করে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রাজশাহী।
ইনিংসের শুরুতে ৩৪ রানে তিন উইকেট হারানো দলকে পথ দেখিয়েছিল চতুর্থ উইকেটে শোয়েব মালিক ও ইরফান শুক্কুরের ৪৬ রানের জুটি। পরপর দুই ওভারে মালিক ১৪, শুক্কুর ৪৫ রান করে আউট হন। অপর প্রান্তে উইকেট পড়লেও লড়াই চালিয়ে গেছেন রাসলে। তার খুনে ব্যাটিংই ফাইনালের টিকিট পাইয়ে দেয় রাজশাহীকে।
এর আগে গেইলের হাফ সেঞ্চুরির পরও ৯ উইকেটে ১৬৪ রানের বেশি যেতে পারেনি চট্টগ্রাম। রাজশাহীর বোলিং বৈচিত্র্য আটকে দিয়েছে চট্টগ্রামকে। ৮ বোলার ব্যবহার করেছিল রাজশাহী। অবশ্য চট্টগ্রামকে বড়ো ধাক্কাটা দিয়েছেন আফিফ। ইনিংসের দশম ওভারে তার অফস্পিনে বিভ্রান্ত হয়ে বোল্ড হন গেইল। যদিও শুরুতে বড়ো ইনিংস খেলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এই ক্যারিবিয়ান। ২১ বলে করেছিলেন হাফ সেঞ্চুরি। আফিফের শিকার হওয়ার আগে ২৪ বলে ৬০ রান (৬ চার, ৫ ছয়) করেন গেইল।
১১তম ওভারে নেওয়াজ ফেরান মাহমুদউল্লাহ ও নুরুল হাসান সোহানকে। সেই ধাক্কার কারণেই চট্টগ্রামের স্কোরটা বড়ো হয়নি। শেষ দিকে আসেলা গুণারত্নের ব্যাটে দেড়শ পার হয় চট্টগ্রামের স্কোর। মাহমুদউল্লাহ ৩৩, গুনারত্নে ৩১ রান করেন। রাজশাহীর পক্ষে ইরফান-নেওয়াজ ২টি করে, আফিফ, কাপালি, রাসেল ১টি করে উইকেট নেন।