ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। অবিলম্বে মাঠ থেকে সরে গিয়ে দল সমর্থিত একক প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার জন্য বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রতি আবারও আহ্বান জানানো হয়েছে। যারা এ সিদ্ধান্ত অমান্য করবেন তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও দলের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি প্রধান সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু এমপি। এদিকে বিদ্রোহী ও তাদের মদতদাতাদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তৃণমূলের নেতারা। উল্লেখ্য, কয়েকজন এমপিও বিদ্রোহীদের মদত দিচ্ছেন। আবার বিদ্রোহীদের অর্ধেকেরও বেশি দাবি জানিয়েছেন প্রার্থিতা উন্মুক্ত করে দেওয়ার।
ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১২৯ ওয়ার্ডের মধ্যে ৭৭টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন ১১১ জন। এর মধ্যে ৯ জন বর্তমান কাউন্সিলর ও একজন এমপির পুত্রও আছেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটির (ডিএসসিসি) ৭৫টি সাধারণ ওয়ার্ডের মধ্যে ৪২টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন ৭২ জন। আর ঢাকা উত্তর সিটিতে (ডিএনসিসি) ওয়ার্ড ৫৪টি। এর মধ্যে ৩৫টিতে ৩৯ জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। বিদ্রোহীদের নিয়ে অনেকটা বেকায়দায় পড়েছে আওয়ামী লীগ। এ ব্যাপারে করণীয় ঠিক করতে গতকাল বুধবার দুপুরে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের দ্বিতীয় তলায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ৭৫টি সাধারণ ওয়ার্ডের বিদ্রোহী কাউন্সিলর ও ২৫টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সংরক্ষিত বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। এতে সভাপতিত্ব করেন আমির হোসেন আমু।
সভায় থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত থেকে প্রচার কার্যে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থি ভূমিকা উল্লেখ করে তাদেরকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান। থানা নেতৃবৃন্দ বিদ্রোহী প্রার্থীদের পিছনে যে সকল মদতদাতা রয়েছেন তাদেরকেও সাংগঠনিক শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানান। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সভার সভাপতি আমির হোসেন আমু এমপি বিদ্রোহীদের সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হবে বলে ঘোষণা দেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. হুমায়ুন কবিরের পরিচালনায় সভায় আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফীসহ মহানগর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জানা গেছে, বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আওয়ামী লীগের মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি, থানা ও ওয়ার্ড কমিটিতে যাতে বিদ্রোহীরা স্থান না পান, সেই বিষয়েও কঠোর থাকবে দলটি।
সূত্র জানায়, বৈঠকে কয়েকজন নেতা কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যারা সারাজীবন আওয়ামী লীগ করলেন তারা সমর্থন পাননি। অথচ ৯ মাস আগে আওয়ামী লীগে যোগদান করা একজনকে কাউন্সিলর পদে সমর্থন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অতীতে বিএনপি-জামায়াত করা প্রার্থীরাও সমর্থন পেয়েছে। এ বিষয়ে আমির হোসেন আমু বলেন, দল যাকে সমর্থন দিয়েছে তার পক্ষেই কাজ করতে হবে। দল হিসাব-নিকেশ করেই সমর্থন দিয়েছে।