lপূর্ব প্রকাশের পর
দাওয়াত-এর প্রয়োজনীয়তা :মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের বাণী অনুযায়ী যেহেতু মহানবি হজরত মুহাম্মদ (স) সর্বশেষ নবি। তার পরে আর কোনো নবি-রাসুল আসবেন না; অথচ তার প্রতি অবতীর্ণ ‘সর্বশেষ ধর্ম’ এবং এই ধর্মের যাবতীয় বিধি-বিধান সংবলিত সর্বশেষ আসমানী গ্রন্থ ‘আল-কোরআন’ কিয়ামত পর্যন্ত আগত তামাম বিশ্ববাসীর হিদায়েত প্রাপ্তির সর্বশেষ মূল উত্স। তাই এ ধর্ম ও ধর্মগ্রন্থের বাণী, তার আহ্বান বিশ্ব মানবতার দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দেওয়া এবং এর প্রচার-প্রসার একমাত্র ‘দাওয়াত ও তাবলিগ’ এর মাধ্যমেই সম্ভব। এ থেকে, দাওয়াত ও তাবলিগের প্রয়োজনীয়তা ও তাত্পর্য সহজেই অনুমেয়। পবিত্র গ্রন্থ আল-কোরআনের নিম্নোক্ত আয়াতগুলোর প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ করলে, আমরা দাওয়াত ও তাবলিগের গুরুত্ব ও তাত্পর্য আরো অধিক উপলব্ধি করতে পারব: (১) আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেন, “তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির (কল্যাণের) জন্য তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে; তোমরা সত্কাজের নির্দেশ দান করবে, অসত্কাজে নিষেধ করবে এবং আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখবে। (০৩:১১০)। (২) তিনি আরো ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের মধ্যে এমন একদল থাকতে হবে, যারা ভালো কাজের দিকে আহ্বান করবে এবং সত্কর্মের নির্দেশ দেবে ও অসত্কর্মে নিষেধ করবে; আর এরাই সফলকাম’। (০৩:১০৪)। (৩) মহান আল্লাহ আরো বলেন, “ওই ব্যক্তি অপেক্ষা কথায় কে উত্তম, যে (মানুষকে) আল্লাহর দিকে আহ্বান করে, নেক আমল করে এবং বলে, ‘আমি তো অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত’।” (৪১:৩৩)। (৪) তিনি আরো বলেন, ‘আপনি উপদেশ দিতে থাকুন, কারণ উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে।’ (৫১:৫৫)। (৫) তিনি আরো বলেন, ‘আর আপনি আপনার পরিবার-পরিজনকে নামাজের আদেশ দিন এবং তাতে নিজেও অবিচল থাকুন—।’ (২০:১৩২)
অন্যদিকে হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবি করিম (স)-কে বলতে শুনেছি, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ মন্দ বা অসত্ কাজ দেখলে, তা যেন সে নিজ হাতে প্রতিরোধ করে। যদি তেমন শক্তি-সামর্থ্য না থাকে, তা হলে সে যেন তার মুখ দিয়ে তা প্রতিহত করে। যদি তা-ও না পারে তা হলে সে যেন তার অন্তর দিয়ে তা প্রতিরোধ/ প্রত্যাখ্যান/ঘৃণা করে। আর এটি হচ্ছে নিম্নতম ঈমানের স্তর।’ (মুসলিম শরিফ)
হজরত ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবি করিম (স) ইরশাদ করেছেন, ‘বনি-ইসরাইল জাতির অধঃপতন বা ধংসের সূচনা হয়েছিল এভাবে যে, তারা যখন একে-অন্যের সঙ্গে সাক্ষাত্ হত তখন মন্দকাজ দেখে বলত, হে অমুক! আল্লাহকে ভয় করো এবং যা করছো তা ছেড়ে দাও; তা তোমার জন্য বৈধ নয়। তারপর আবার পরের দিন তার সঙ্গে তার অপকর্মরত অবস্থায় মিশত এবং তাকে নিষেধ করত না; অথচ একই সঙ্গে পানাহার, উঠাবসা করতে থাকত। একপর্যায়ে তাদের ভালো-মন্দ অন্তর পরস্পর সমান হয়ে গেল...অতঃপর নবিজি (স) শপথ করে জোর তাকিদসহ বললেন, অবশ্যবই অবশ্যই তোমরা ভালো কাজের আদেশ দেবে এবং খারাপ কাজে নিষেধ করবে এবং অবশ্যই তোমরা জালেমকে প্রতিহত করবে এবং তাকে সত্য ও ন্যায়ের ওপর উঠতে বাধ্য করবে।”(আবু দাউদ, তিরমিজি) অর্থাত্ সত্ কাজের আদেশ ও অসত্ কাজের নিষেধ অব্যাহত না রাখায় এক সময় তারা ধ্বংস হয়ে গেল।
(৩) হজরত জারির ইবন আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (স)-কে বলতে শুনেছি, ‘কোন সম্প্রদায় বা জাতির মধ্যে কোনো ব্যক্তি যখন পাপকাজ করতে থাকে। আর ওই জাতির লোকজনের লোকটিকে প্রতিরোধ-প্রতিহত করার সামর্থ্য থাকে; অথচ তার পরও তাকে প্রতিহত করে না (নিষেধ করে না, বাধা দেয় না, পাপকর্ম বন্ধ করতে সচেষ্ট হয় না)। তা হলে মৃত্যুর আগেই অবশ্যই সংশ্লিষ্টদের ওপর আল্লাহর আজাব নাজিল হবে!’ (আবু দাউদ, ইবনে মাজা, ইবনে হিব্বান, তারগিব ইত্যাদি)। (সমাপ্ত)
লেখক : মুফতি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বায়তুল মোকাররম, ঢাকা