বরিশালে, খালে

 

আমার দু হাত, সামান্য খালের মতো, শীর্ণ, কালো, ঝুলে আছে।

বিলবোর্ড, গুমট প্লাস্টিক, দূরের লঞ্চের নল, সকল বাতাস—

ঝুলে আছে, মাঝ পথে, এখন দুপুরে।

আমি নানাবিধভাবে ঝুলে আছি। ঝুলে থাকব।

 

নোয়ানো ডালের স্পর্শে বয়ে যাওয়া খাল ঘুরে যাচ্ছে।

যারা খালে নেমে স্নান করছে তারা কথা বলছে। 

স্নানে জল কেঁপে উঠছে, স্নানে জল কাঁপছে।

ওদের কথার শব্দ খাল আর পানির ভিতরে ঝুলছে।

 

দিনভর বহু কিছু ডুব দেয়, বরিশালে, খালের পানিতে।

পাখি, নারী, কলস, শেয়াল; কিছু ডুব দেখা যায়;

কিছু ডুব, সকলের অগোচরে ঘটে।

সন্ধ্যায় নিথর জলে পানির সকল চাকা ঘোরে,

বহুরাতে অনেকেই ফিসফিসে স্নান করতে আসে।

 

বহু বৈঠা, বহু চাকা, বহু ঝুলে থাকা, বুকে নিয়ে,

হামাগুড়ি দিয়ে, গড়িয়ে গড়িয়ে, ক্লান্ত খাল, চলে।

অবশেষে, শেষরাতে, ডাল ধরে ঝোলে আর ঝোলে।

এসব দেখোনি তুমি; আমি জানি।

জোনাকিরা খালে নেমে ঝুলে আছে, তুমি তা দেখোনি।

বহুদিন খাল কোলে নিয়ে বসে থাকলে

হয়তো তুমিও দেখবে—ডুব দেয়া, ক্ষণিকের ঝুলে থাকা,

ফিসফিসে সাঁতারে ভেসে যাওয়া, এসব দেখবে।

 

দুই হাতে সরাচ্ছে পানি, মাথা উঁচু রমণী, কাছিম।

রঙিন বিলবোর্ডের বিষণ্নতা সাদাকালো; তার থেকে বহুদূরে

বরিশালে, গ্রামে, খালে, ডুব দেয়া ঝুলে থাকা,

প্রবাহিত হওয়া মিশে গেছে; মিশে যাচ্ছে—অন্ধকারে

কালো পাখি হয়ে, হয়তো বা, তুমিও এসব দেখবে।

 

যা অমৃত তা তুমি, শরীরের কম্পনে টের পাবে।

কোথায় খুঁজবে তাকে জানা নাই বলে

খালের নিথর বুক, নিজ বুকে অনুভব করবে :

বিলবোর্ড ঝুলে আছে, খাল শব্দহীন সারারাত।

 

তুমি দেখবে, অজানা দূরত্ব থেকে এসে, গান করছে,

সামান্য খালের মতো, আমার দু হাত, ঝুলে ঝুলে।