বিবর্ণ ক্লান্তিরেখা

 

চিন্তার মেঘমালায়

জমে আছে বিবর্ণ ক্লান্তিরেখা।

 

প্রভু, তুমি করো দূর

      তুমি করো দূর

কেননা আমাকে যেতে হবে বহুদূর।

 

অন্তপুরে বৃন্দাবনের রাধা-কৃষ্ণ

বাজায় প্রেমের সুর

এটাই বুঝি চেতনার দীপ্ত পদাবলি

যা আমি অসংখ্য মানুষের বুকে মাথা রেখে শুনি।

 

দুপুরের উত্তপ্ত রোদ্দুরে

শ্রমিকের কপাল বেয়ে ঝরে পড়ে

শিশিরের অশ্রুসিক্ত বাতাবি লেবুর ঘাম

সত্যের বাণী মনিবের অন্তরে এখনও পৌঁছায়নি

তাই আমি খুঁজি নির্মোহ নিষ্পাপ শৈশবের ঐশ্বী বাণী।

 

বাতাসের বুকে চেপে বেড়ায়

ধূলিময় আবরণে ঢাকা পড়া স্মৃতির আলপনা

পাথর ঘষা বারোদের গন্ধের মতো অঙ্কিত আছে জীবনের অভিজ্ঞতা

বৃষ্টিমুখর পুকুর সাঁতরানো সন্ধ্যাকালের কীর্তন

কবিগানের মিহিদানা সুর

গ্রামের রুঢ় বাস্তবতায় আনন্দের ঢেকুর।

 

আমি অবসরে করি সন্ধান

চিত্তের প্রসন্ন ফুল

জারুল-সোনালু-কৃষ্ণচূড়া

অনন্ত যৌবনের গন্ধমাখা শিউলি বকুল।

 

বীণাপাণি বাজাচ্ছে

হূদয় রাঙানো সুর

অবসাদ, ক্লান্তির বিষুবরেখা

সবই হবে দূর।

 

ম্রিয়মাণ শুষ্ক লতা

উঠবে আবার জেগে

অমৃতসুধা বইছে যার নির্জীব অন্তরে।

 

দূর হবে দূর হবে

ক্লান্তির কালোছায়া।