দীর্ঘমেয়াদে দেশের পানি ব্যবস্থাপনায় শত বর্ষব্যাপী ডেল্টা পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশের মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি বছরে দেড় শতাংশ বেশি বাড়বে। তাছাড়া বন্যা প্রতিরোধ ও উপকূলীয় অঞ্চল লবণাক্ত মুক্ত এবং সুরক্ষিত করে দারিদ্র্য হার শুন্যের কোটায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। ডেল্টা প্ল্যানের প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে ২০৩০ সালের মধ্যে ৮০টি প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।
‘ইন্টিগ্রেটেড অ্যাসেসমেন্ট ফর দ্য বাংলাদেশ ডেল্টা প্লান-২১০০’ শীর্ষক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) আয়োজনে এই সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনার সঞ্চালনা করেন জিইডি সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মনসুর রহমান। প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি একটি চলমান গবেষণা। ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন না হলে ২০২৭ সালের মধ্যে অতি দারিদ্র্যের হার শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসা সম্ভব নয়। দেশের ১৩৯টি বাঁধ সংরক্ষণের অভাবে প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। যদি এসব বাঁধ সংরক্ষণ করা সম্ভব হয় তাহলে মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বন্যা ও উপকূলীয় অঞ্চল লবণাক্ততামুক্ত রাখা সম্ভব হবে। তবে এ ক্ষেত্রে উপকূলীয় অঞ্চলের বাঁধগুলো আরো ৪ মিটার উঁচু করতে হবে। যেগুলো সংস্কারের অভাবে এখন ২ থেকে আড়াই মিটারে রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে উপকূলীয় অঞ্চল রক্ষা করতে হলে বনায়নের মাধ্যমে বেষ্টনী তৈরি করতে হবে। আর যেকোনোভাবেই হোক সবুজ বেষ্টনী তৈরি করতে হবে। এছাড়া খুলনা ও সাতক্ষীরা অঞ্চলের বাঁধ সংস্কারের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় স্লুইস গেট তৈরি করতে হবে। সেমিনারে জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, ব্যয়বহুল হলেও উপকূলীয় অঞ্চল রক্ষায় বাঁধ সংস্কারের বিকল্প নেই। সুন্দরবন রক্ষা করতে হবে। এতে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। ড. শামসুল আলম বলেন, সমন্বিতভাবেই ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে হবে। ডেল্টা প্ল্যানের প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে ২০৩০ সালের মধ্যে ৮০টি প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি প্রকল্প ইতিমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে। এছাড়া ২১টি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ১ হাজার ৫৬৪টি প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে ২৪৬টিই হচ্ছে ডেল্টা প্ল্যান সংশ্লিষ্ট। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ৮০টি প্রকল্পের মধ্যে গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্পটি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। সভাপতির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বাংলাদেশে শত বছরের ডেল্টা পরিকল্পনা হচ্ছে একটি আমব্রেলা প্রকল্প। এডিপি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে।