পাহাড়ে বাড়ছে ‘রেডলেডি’ পেঁপের চাষ

চট্টগ্রামের পাহাড়ে ও সমতলে দেশীয় ও হাইব্রিড ‘রেডলেডি’ এবং ‘সুইটি’ জাতের পেঁপে চাষে স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়ছে। পাহাড়ে বা সমতলে বসতবাড়ির আঙিনায় আগে দুই-একটি পেঁপে গাছ চোখে পড়লেও এখন সারি সারি পেঁপে গাছ চোখে পড়ে।

খাগড়াছড়িতে ভ্রমণপিপাসুদের আনাগোনা বেড়ে যাবার পর থেকেই মূলত স্থানীয়ভাবে পেঁপের চাহিদা বেড়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। জেলা শহরের ফল বিক্রেতা নিজাম উদ্দিন বলেন, পেঁপে এখন পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় ফল হিসেবে পরিচিত। খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ের মাটি ও আবহাওয়া হাইব্রিড জাতের পেঁপে চাষের উপযোগী। সূত্র মতে, খাগড়াছড়ির ৯টি উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৩৩৪ হেক্টর জমিতে পেঁপের আবাদ হয়েছে।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার পেঁপে চাষি পরশ চাকমা ৬০ শতক জমিতে ৬০০ ও জংলীটিলা এলাকায় নিটল চাকমা ২ হাজার পেঁপে চারা লাগিয়ে আয়ের স্বপ্ন দেখছেন। তাদের মতে, পাহাড়ের মাটির উর্বরতা ও অনুকূল আবহাওয়া রেডলেডি জাতের পেঁপে চাষের জন্য সহায়ক। শুধু ছত্রাকের আক্রমণ ছাড়া অন্য কোনো রোগ হয় না।

খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই জানান, ‘তাইওয়ানের উচ্চফলনশীল বামন প্রজাতির এ পেঁপে চারা রোপণের ছয় মাসের মধ্যে ফুল আসে এবং সাত-আট মাসের মধ্যে প্রথম ফল পাওয়া যায়। তবে তার পরিমাণ ১০ থেকে ১২টির বেশি নয়। লাল-সবুজ রঙের প্রতিটি পেঁপের ওজন হয় দেড় থেকে দুই কেজি। এ প্রজাতির পাকা পেঁপে খেতে সুমিষ্ট, সুগন্ধিযুক্ত ও অপেক্ষাকৃত শক্ত। রেডলেডি ও  সুইটি  কাঁচা ও পাকা উভয় প্রক্রিয়াতেই বাজারজাত করা যায়। পাকা পেঁপে খুব সহজে নষ্ট হয় না বলে বাজারজাত করা সহজ। এ জাতের পেঁপের রিং স্পট ভাইরাস রোগ সহ্য করার সক্ষমতা রয়েছে। ‘রেডলেডি’ জাতের পেঁপে গাছের আয়ুষ্কাল ২ বছরের বেশি।