দাকোপের আবাসিক কোয়ার্টারগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। আর এসব কোয়ার্টারে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ফলে সারাক্ষণই আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে তাদের।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সিএ শংকর প্রসাদ গোলদার জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য পৃথক ১২টি আবাসিক কোয়ার্টার রয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতালের বেশ কয়েক বছরের আগের পরিত্যক্ত একটি বাদে পাঁচটির ২২টি ইউনিট ও উপজেলা পরিষদের ব্যাচেলরসহ ছয়টি কোয়ার্টারের ৪০টি ইউনিট। দীর্ঘদিনের পুরোনো এসব জরাজীর্ণ আবাসিক কোয়ার্টারে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরিবারসহ ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে আসছে। কোয়ার্টারগুলো দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় বিভিন্ন স্থানে বড়ো বড়ো ফাটল দেখা দিয়েছে এবং যেখান-সেখান থেকে খসে পড়ছে ছাদের আস্তরণ বা পলেস্তরা। বৃষ্টি হলে ছাদের ফাটল দিয়ে পানি চুইয়ে প্রয়োজনীয় মালামাল নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া জানালা-দরজার অবস্থাও শোচনীয়।
হাসপাতালের একাউন্টেট বর্ণালী প্রসাদ রায় জানান, হাসপাতালের কোয়ার্টারগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় হঠাত্ তার সিলিং ফ্যানসহ ছাদের আস্তরণ খসে খাটের ওপর পড়লে খাটের এক পাশ ভেঙে যায়। এতে তিনি অল্পের জন্যে বেঁচে যান।
উপজেলা পরিষদ কোয়ার্টারে বসবাসরত উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গৌরপদ বাছাড় বলেন, কোয়ার্টারগুলো অত্যন্ত জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কারণে অনেক আগে থেকেই পরিত্যক্ত ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছি। এছাড়া মাসিক সভায় আলোচনা করেছি এবং রেজুলেশনও হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী ননী গোপাল দাস জানান, অনেক আগেই অধিকাংশ কোয়ার্টার পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে কোয়ার্টারগুলো নতুন করে নির্মাণ ছাড়া সংস্কারযোগ্য নয়। উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোজাম্মেল হক নিজামী বলেন, কোয়ার্টারগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন মহলে আবেদন করেছেন বলে জানান।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুনসুর আলী খান বলেন, কোয়ার্টারগুলোর অবস্থা এতই খারাপ যে বসবাসের পরিবেশ নেই। ইতিমধ্যে মাসিক সভায় রেজুলেশন করা হয়েছে। যেগুলো সংস্কার করা যায় সেগুলো সংস্কার হবে। বাকিগুলো নতুন ভবন চেয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল ওয়াদুদ জানান, কোয়ার্টারগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবনের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হবে।