রেমিট্যান্স আয়ে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের ১ থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে দেশে ৯৫ কোটি ৭০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এর আগে মাত্র ১৫ দিনে এত বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসেনি। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম রেমিট্যান্স। অর্থনীতিতে আরো বেশি ভূমিকা রাখার জন্য প্রবাসীরা যাতে বেশি করে রেমিট্যান্স পাঠায় সেজন্য সম্প্রতি রেমিট্যান্সের ওপর প্রণোদনা চালু করেছে সরকার। ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠালেই গ্রহীতারা ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা পাচ্ছেন। চলতি বছরের বাজেটে রেমিট্যান্সের প্রণোদনা দেওয়ার জন্য ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রণোদনার কারণেই রেমিট্যান্স বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রতি বছরই রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাড়ছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১ হাজার ৬৪২ কোটি (১৬ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের ছয় মাসে আগের অর্থবছরের একই মাসগুলোর তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) রেমিট্যান্স এসেছে ৯৪০ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
চলতি বছরের বাজেটে প্রথম প্রণোদনার কথা ঘোষণা করা হয়। ঘোষণার চার মাসের মধ্যেই সরকার এটা বাস্তবায়ন করেছে। এত অল্প সময়ের মধ্যে বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করে এটা বাস্তবায়নকে ইতিবাচক দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এ বিষয়ে নীতিমালা তৈরি, ব্যাংকের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, সফটওয়্যার আপডেট প্রভৃতি এত অল্প সময়ে করাটা সহজ কাজ নয়। তার পরও সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে।
বিশ্বের শীর্ষ রেমিট্যান্স আহরণকারী দেশগুলোর মধ্যে বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান নবম আর জনশক্তি রপ্তানিতে বাংলাদেশ পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তম। রেমিট্যান্স বাড়ানোর জন্য আরো অনেক কিছু করার রয়েছে। দেশের বেকার তরুণদের জনশক্তিতে রূপান্তর করার জন্য নতুন নতুন শ্রম বাজার খুঁজে বের করতে হবে। আর আমাদের যেসব বাজার রয়েছে সেসব দেশে আরো প্রশিক্ষিত করে লোকবল পাঠাতে হবে। দেশের তরুণ-তরুণীদের আধুনিক কারিগরি শিক্ষায় প্রশিক্ষিত করার ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাংলাদেশ এখন ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুযোগ ভোগ করছে। দেশের অধিকাংশ মানুষ তরুণ। তরুণরা নানা কাজে লাগতে পারে। তাদের শ্রমকে যথাযথভাবে সরকার যদি কাজে লাগাতে পারে তাহলে তা দেশের অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে। বাংলাদেশের যেসব কর্মী বিদেশে অবৈধভাবে রয়েছে তাদের বৈধ করার জন্য কূটনৈতিক তত্পরতা চালাতে হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।