কয়েক সপ্তাহের অচলাবস্থার পর সিনেটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসনের বিচার শুরুর জন্য অভিযোগপত্র বা আর্টিক্যালস অব ইমপিচমেন্ট পাঠিয়েছে প্রতিনিধি পরিষদ। সিনেটে অভিশংসনের পক্ষে যারা মামলা পরিচালনা করবেন, সেই ‘ইমপিচমেন্ট ম্যানেজাররা’ বুধবার আর্টিক্যালস অব ইমপিচমেন্ট সিনেটে পেশ করেন। এটি পাওয়ার পর সিনেটের রিপাবলিকান মেজরিটি নেতা মিচ ম্যাককোনেল বলেন, বৃহস্পতিবার অভিযোগগুলো উচ্চকক্ষে পড়া হবে। মঙ্গলবার থেকে বিচার কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
সিনেটে এই আর্টিক্যাল পাঠানো এবং ইমপিচমেন্ট ম্যানেজার নিয়োগের বিষয়ে বুধবারই ২২৮-১৯৩ ভোটে প্রস্তাব পাশ হয় প্রতিনিধি পরিষদে। এরপর আর্টিক্যালস অব ইমপিচমেন্টে স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ও সাত ডেমোক্র্যাট ম্যানেজার সই করেন। পেলোসি অভিশংসনের অভিযোগ সিনেটে পাঠানোকে ‘ঐতিহাসিক’ ঘটনা বলে অ্যাখ্যা দেন। তিনি কয়েকটি কলম দিয়ে এই অভিযোগপত্রে সই করেন। এরপর ম্যানেজাররা এই অভিযোগপত্র সিনেটে পেশ করেন। যদিও সিনেট আনুষ্ঠানিকভাবে এটি গ্রহণ করেনি। বৃহস্পতিবার এটি আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হওয়ার কথা বলে জানানো হয়েছে। সিনেটে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্ট বিচার পরিচালনা করবেন। এ লক্ষ্যে তিনি শিগগিরই সিনেটে যাবেন এবং শপথ নেবেন। এছাড়া বিচার শুরুর আগে জুরি হিসেবে কাজ করা সিনেটরাও শপথ নেবেন।
গত ডিসেম্বরে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কংগ্রেসের কাজে বাধা দেওয়ার দুটি অভিযোগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অভিশংসিত করে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ। এই প্রতিনিধি পরিষদে বর্তমানে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। সেখানে অভিশংসনের পক্ষে কোনো রিপাবলিকান সদস্য ভোট দেননি। ট্রাম্পের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দুজন প্রেসিডেন্ট প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসিত হয়েছিলেন। তারা হলেন, অ্যান্ড্রু জনসন ও বিল ক্লিনটন। কিন্তু সিনেটের বিচারে তারা কেউ ক্ষমতা থেকে অপসারিত হননি। কারণ প্রেসিডেন্টকে অপসারণে দুই-তৃতীয়াংশ সিনেটরের ভোট জরুরি। এ কারণে সিনেটে ট্রাম্পের অভিযুক্ত হয়ে ক্ষমতা থেকে সরে অপসারিত হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ ১০০ সদস্যের সিনেটে এখন রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। ৫৩ রিপাবলিকান সিনেটরের কেউই এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যাওয়ার কথা জানাননি। এ অবস্থায় ট্রাম্পকে সরাতে হলে ৪৫ ডেমোক্র্যাট ও দুই স্বতন্ত্র সিনেটরের পাশাপাশি অন্তত ২০ রিপাবলিকান সিনেটরের সমর্থন লাগবে। এদিকে সিনেটে আর্টিক্যালস অব ইমপিচমেন্ট পাঠানোর আগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের নতুন তথ্য-প্রমাণ হাজির করেছে ডেমোক্র্যাটরা। এতে দেখা যায়, ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূতকে নজরদারিতে রাখার কথা বলা হয়েছে। এগুলো ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী রুডি জুলিয়ানির একজন সহযোগী, ইউক্রেনীয়-আমেরিকান ব্যবসায়ী লেভ পারনাসের কাছ থেকে পাওয়া গেছে। ইউক্রেনের ওপর চাপ প্রয়োগের কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত লেভ পারনাস বলছেন, ‘ইউক্রেনকে চাপ দিতে কী ঘটছে, সেটা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভালো করেই জানতেন। আমি কী করছি সে বিষয়েও প্রেসিডেন্ট জানতেন। ’