সাতকানিয়া উপজেলার চরতি ইউনিয়নের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা প্রণব কুমার ধর (প্রকাশ পি কে ধর রুনু) মহান মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের একজন লড়াকু সৈনিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন সাতকানিয়াসহ চট্টগ্রামের সর্বত্র। তিনি অসুস্থতাজনিত কারণে নিজবাড়িতে পরলোক গমন করেন। কিন্তু তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদাতো দূরের কথা উলটো রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দেওয়ার জন্য অভিযোগ দেওয়ায় রুনু ধরের স্বজনদের পাশাপাশি ক্ষোভে ফুঁসছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। এ নিয়ে তোলপাড় চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
রবিবার বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রণব কুমার ধর (প্রকাশ পি কে ধর রুনু) পরলোক গমন করেন। এ বীরের মৃত্যুর খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। রুনু ধরের মৃত্যুর পরদিন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবু তাহের এলএমজি নিজেকে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হিসেবে দাবি করে তার ও ৩০ মুক্তিযোদ্ধার স্বাক্ষর ও গেজেট নম্বর উল্লেখ করে রুনু ধরকে ‘রাষ্ট্রীয় সম্মানে’ সমাহিত না করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রশাসকের (যেহেতু কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ তাই ইউএনও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রশাসক) কাছে আবেদন করেন। ইউএনও আবেদনের সত্যতা যাচাই না করে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা থেকে বিরত থাকেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, রুনু দাকে আমরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেই জানি। মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রথম সারিতে তাকে আমরা দেখেছি। যাদের অবহেলায় তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়নি, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
রুনু ধরের ছোটো ভাই সুশান্ত ধর বলেন, আমার ভাই ব্যক্তি জীবনে খুবই সত্ ছিল। সে মুক্তিযুদ্ধ করেছে কোনো কিছু পাওয়ার লোভে নয়। অন্তত মৃত্যুর পর তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া উচিত ছিল। মৃত্যুর পর তাকে বিতর্কিত করাই আমাদের শোককে আরো দিগুণ করে দিয়েছে।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবু তাহের এলএমজির মোবাইল ফোনে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন বলেন, রুনু ধর আসলে প্রণব কুমার ধর নয় এবং তিনি মুক্তিযোদ্ধা ও নন- মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের এলএমজিসহ ৩০ মুক্তিযোদ্ধার স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ আমি পেয়েছি। এছাড়া মৃত মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের পক্ষ থেকে আমাকে কেউ জানায়নি। তাই তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া থেকে বিরত ছিলাম।