শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নতুন বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম। এবার নির্বাচনী প্রচারণায়ও শিশুদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে কথা বললেন ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগের এই প্রার্থী। সেখানে শিশু ও তাদের অভিভাবকের সঙ্গে সেলফি তুলতে দেখা যায় মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামকে।
বৃহস্পতিবার ঢাকা-১৬ আসনের অন্তর্ভুক্ত উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আলুব্দি ঈদগাহ মাঠ থেকে শুরু করে মিরপুর-১২, সেকশন ১১, পলাশনগর, সেকশন ১০, পল্লবী, মিল্ক ভিটা, রূপনগর এলাকায় সপ্তম দিনের মতো নির্বাচনী গণসংযোগ ও প্রচারণা চালান তিনি। এ সময় মিরপুর দুয়ারীপাড়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে অবস্থিত একটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে তিনি ছবি তোলেন।
শিশুদের শারীরিক ও মেধা বিকাশে উন্মুক্ত স্থান ও খেলার মাঠ সংরক্ষণের দাবি রাজধানীবাসীর দীর্ঘদিনের। ৯ মাস ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের দায়িত্বে থাকাকালে বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছেন আতিকুল ইসলামও। তার নির্বাচনী প্রচারণায় বেশ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে রাজধানীর নতুন প্রজন্মের জন্য খেলার মাঠ, অবকাশ কেন্দ্র ও পার্ক নির্মাণের কথা। ব্যক্তিগতভাবে তিনিও চান রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে খেলার মাঠগুলো সংরক্ষণ এবং আরো নতুন খেলার মাঠ ও পার্ক নির্মাণ করতে। এ লক্ষ্যে মেয়র থাকাকালে বেশ কিছু প্রকল্প অনুমোদনও করে এসেছেন তিনি। মেয়র আতিকুল জানান, স্বল্প সময়ে তার নেয়া পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য হলেও আরো একবার তাকে সুযোগ দেয়া উচিত।
ব্যস্ত শহর ঢাকায় মানুষকে কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে সাপ্তাহিক বা মাসের নির্দিষ্ট দিনে বিভিন্ন সড়কে গাড়ী মুক্ত সড়ক ঘোষণার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন আতিকুল ইসলাম। কিছু কিছু স্থানে তা বাস্তবায়নও করা হয়েছে। এ ছাড়াও দৃষ্টিনন্দন করে নির্মাণ করা হয়েছে ৪টি পার্ক ও ১৬টি পাবলিক টয়লেট। পরিকল্পনায় রয়েছে আরো ২২টি পার্ক, ৪টি খেলার মাঠ উন্নয়ন এবং ৭৩টি স্বাস্থ্যকর পাবলিক টয়লেট নির্মাণের। পৃথকভাবে ৪টি কবরস্থানের উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শহর আধুনিকায়ন ও সবুজায়ন এ সকল প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২৭৯.৫০ কোটি টাকার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে ২০২০ সালের জুন মাসে।
বৃহস্পতিবার নির্বাচনী প্রচারণায় আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচিত হলে গত ৯ মাসে যে কাজ করেছি, তার চেয়ে বেশি কাজ করে আপনাদের সচল, সবুজায়ন, মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ঢাকা উপহার দেব।’
সরস্বতী পূজার জন্য সম্ভব হলে সিটি নির্বাচন পেছাতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। আমি চাই না, সরস্বতী পূজার দিন নির্বাচন হোক। পূজার কথা স্মরণ রেখে নির্বাচন পেছানো হোক—এই দাবি করছি। আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, ধর্ম পালনে কারো যেন কোনো বিঘ্ন না হয়।’ গণসংযোগ ও প্রচারণাকালে অন্যদের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি, স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর ভাই এখলাস উদ্দিন মোল্লা প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/আরএ