রেজাউল হক কৌশিক
নতুনকে দেখার অদম্য ইচ্ছা মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা। আবার সুন্দর জায়গায়, মনোরম পরিবেশে বারবার যেতে চাওয়ার ইচ্ছাও থাকে মানুষের মনে। এমন ইচ্ছা যুগ যুগ টিকে থাকে বলেই পর্যটন শিল্প গড়ে ওঠে এবং তার বিকাশ হয়। বাংলাদেশের পর্যটন স্পটগুলোর মধ্যে সবচে জনপ্রিয় হলো কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। তবে তা দেশের একপ্রান্তে ও ঢাকা থেকে দূরবর্তী হওয়ায় পর্যটকদের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা সমস্যা তৈরি করে। তবে কক্সবাজারের সঙ্গে অন্য জায়গার বিশেষ করে ঢাকার বিমান যোগাযোগ বাড়ানো গেলে সে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। পর্যটন শিল্প আরো সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়কপথে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব ৪০০ কিলোমিটার। যা পাড়ি দিতে প্রায় এক দিন লেগে যায়। আর সড়কপথে ভ্রমণ করে ক্লান্তি আসে। যার ফলে ভ্রমণ আনন্দদায়ক হয় না। অন্যদিকে ঢাকা থেকে বিমানযোগে মাত্র এক ঘণ্টায় কক্সবাজার পৌঁছানো যায়। ইচ্ছা করলে দিনে দিনে ফিরে আসাও সম্ভব। এই রুটে আকাশপথে ভ্রমণ সহজ ও সাধারণ পর্যটকটের আয়ত্বে আসলে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের আরো বিকাশ হবে।
‘পর্যটন শিল্প বিকাশে বিমান যোগাযোগ’ বিষয়ে সম্প্রতি সেমিনারের আয়োজন করে বেসরকারি বিমান পরিবহন কোম্পানি নভোএয়ার। কক্সবাজার কীভাবে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন বিশ্বমানের পর্যটন স্পট হতে পারে সে বিষয়ে বক্তারা তাদের চিন্তা তুলে ধরেন। তারা বলেন, অন্যান্য সুবিধা না থাকলে শুধু সমুদ্র সৈকত দেখতে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা এখানে আসবে না। তারা বলেন, ভালো পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সুন্দর পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নে নীতি-নির্ধারকদের বড়ো ভূমিকা পালন করার বিকল্প নেই।
সেমিনারে নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান, হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস মেসবাহ উল ইসলাম, এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্ট ফোরাম বাংলাদেশের (এটিজেএফবি) সভাপতি নাদিরা কিরণ, সাধারণ সম্পাদক তানজিম আনোয়ার বক্তব্য রাখেন।
মফিজুর রহমান বলেন, এখন পর্যটনের যে ঢেউ শুরু হয়েছে বিমান যোগাযোগ না থাকলে তা কখনো সম্ভব হতো না। দেশিয় পর্যটকদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকদের এ দেশের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
কক্সবাজারের পাশাপাশি অন্যান্য পর্যটন স্পটগুলোকে আকর্ষণীয় করার কথা সেমিনারে বলা হয়। সুন্দরবন ও মোংলা পোর্টের কাছাকাছি জায়গায় একটি বিমানবন্দর করার প্রস্তাব করেন বক্তারা।
ছবি: ইন্টারনেট