আবুল কাসেম ভূঁইয়া
দেশে গরু অথবা মহিষের মাংসের বিকল্প হিসেবে গয়াল (বনগরু)-এর মাংসের চাহিদা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেশ কয়েক বছর আগেও এই গয়াল চট্টগ্রামে বিভিন্ন মাজারে উরসের সময় জবাই করা হতো। কিন্তু এখন যেকোনো অনুষ্ঠানে গয়ালের মাংস পরিবেশন করা হচ্ছে। গয়াল সম্পর্কে দেশের সাধারণ মানুষের তেমন একটা ধারণা নেই। গয়াল দেখতে অনেকটা মহিষের মতো। গয়ালের মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু এবং চর্বিবিহীন। চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে এদের বিচরণ। পার্বত্য চট্টগ্রামে লবণের টোপ ফেলে গয়াল ধরা হয়। প্রতিটি গয়াল ৪০০ থেকে ৮৫০ কেজি ওজনের হয়। গয়াল সাধারণ তৃণভোজী। এরা বনের ভেতর দলবদ্ধ হয়ে চলাফেরা করে থাকে।
গয়াল সাধারণত খুবই শক্তিশালী হয়ে থাকে। শিকারিরা টোপের সাহায্যে গয়াল ধরে বাজারে বিক্রি করে থাকে। অবশ্য গয়াল গরুর মতো পোষ মানে। প্রতিটি গয়াল দেড় থেকে দুই লাখ টাকায় বিক্রি হয়। ফলে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অনেকেই গয়ালের খামার গড়ে তুলেছেন। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, পটিয়া, রাঙ্গুনিয়া, বান্দরবান, রুমা, থানছি, আলীকদমসহ বিভিন্ন এলাকায় গয়ালের খামার গড়ে উঠেছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে গয়াল কিনে এনে সমতল এলাকায় খামারে গয়ালের লালন পালন করা হচ্ছে।
ইদানীং গয়ালের খামারে গয়ালের বংশ বিস্তার ঘটছে। অনেকেই গয়ালের খামার গড়ে তুলতে এগিয়ে আসছেন। খামারের মালিকরা জানান গত কয়েক বছরের মধ্যে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য গয়ালের খামার গড়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানের লোকজন তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আপ্যায়নের জন্য চট্টগ্রাম থেকে গয়াল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। গয়ালের মাংসে কোলস্টেরল কম হওয়ায় যে কেউ গয়ালের মাংস খেতে পারবেন। গরু, মহিষের খামারের মতো গয়ালের খামার গড়ে তোলা যায়। গয়াল পালন বেশ সহজ। এরা কাঁচা ঘাস, খড়, ভূসি খেয়ে থাকে। গয়ালের রোগবালাই কম। গয়ালের দেহে কোনো ধরনের কৃত্রিম ওষুধ প্রয়োগ করার প্রয়োজন পড়ে না।