বাঁশখালীতে বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্তদের মানববন্ধন

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ী ইউনিয়নে গোবিন্দ খাল খনন ও বেড়িবাঁধ নির্মাণের সময় বসতবাড়ি উচ্ছেদ বন্ধের দাবিতে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানারসহ মানববন্ধন করেছে ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক পরিবার। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদ মাঠ ও প্রধান সড়কে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন করেছেন। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তারকে স্মারকলিপি প্রদান করে।

প্রতিবাদ সভায় ক্ষতিগ্রস্তরা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে (পাউবো) খাল খনন প্রকল্পে পুঁইছড়ী ইউনিয়ন থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত ছনুয়া খাল ও গোবিন্দ খালের পুঁইছড়ী অংশের বাসিন্দাদের বিনা নোটিশে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। বাসিন্দাদের বসতবাড়ি ও ধানি জমির মাটি কেটে খাল খনন ও বেড়িবাঁধ তৈরি করা হচ্ছে। খালের পার্শ্বে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির মালিকদের কোনো নোটিশ না দিয়েই লাল পতাকার খুঁটি দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। গত কিছু দিন ধরে এক্সাভেটর দিয়ে ভেঙে শতাধিক বসতবাড়ি উচ্ছেদ করা হয়েছে।

পুঁইছড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোলতানুল গণি চৌধুরী মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে বলেন, গরিব, অসহায় মানুষদের পুনর্বাসন না করে শত বছরের বসবাসকারী পরিবারের বসতবাড়ি উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

বাঁশখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বরত সহকারী প্রকৌশলী মঞ্জুর আলম জানান, পুঁইছড়ী এলাকায় খাল ও বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য সরকারিভাবে টেন্ডারের মাধ্যমে ১০ কোটি টাকার কাজ শুরু হয়েছে। তবে ব্যক্তিমালিকানাধীন খতিয়ানভুক্ত জায়গার মালিকদের নোটিশ কিংবা জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে চলেন।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার বলেন, পুঁইছড়ী ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বসতবাড়ি উচ্ছেদের বিষয়টি সরজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জঙ্গল নাপোড়া পৈতৃক জমিতে ক্ষতিপূরণ ছাড়া কোনো ধরনের জমি পানি উন্নয়ন বোর্ড দখল করার নিয়ম নেই বলেও তিনি জানান। ছয় মাস পূর্বে প্রশাসনকে জানানোর কথা। কিন্তু পানি উন্নয়নের কোনো কর্মকর্তা উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেননি।