তালায় হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখির বাসা

তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা

দেশের এক সময়ের নজরকাড়া বাবুই পাখিকে নিয়ে কবির ‘স্বাধীনতার সুখ’ কবিতাটি আজও মানুষ উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করলেও তালায় হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখি ও তার বাসা। বাবুই পাখির বাসা আজ অনেকটা স্মৃতির অন্তরালে বিলীন হতে চলেছে। অথচ আজ থেকে প্রায় ১৫-১৬ বছর আগেও গ্রাম-গঞ্জে মাঠে-ঘাটের তালগাছে দেখা যেত বাবুই পাখির নিপুণ কারু খচিত বাসা।

তালা উপজেলাসহ আশপাশের এলাকার বিভিন্ন গ্রামে এখন আর আগের মতো বাবুই পাখির নজরকাড়া বাসা চোখে পড়ে না। এসব বাসা শুধু শৈল্পিক নিদর্শনই ছিল না, মানুষের মনে চিন্তার খোরাক জোগাত এবং স্বাবলম্বী হতে উত্সাহিত করত। সময়ের বিবর্তনে ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে এখন ঐ পাখি হারিয়ে যাচ্ছে। দৃষ্টিকাড়া গাছের ঝুড়ির মতো চমত্কার বাসা বুনে বাস করায় এই পাখির পরিচিতি বিশ্বজোড়া। নারিকেল গাছের কচিপাতা, খড়, তালপাতা ও খেজুর গাছের পাতা দিয়ে উঁচু তালগাছে বাসা তৈরি করত বাবুই পাখি। প্রবল ঝড়েও তাদের বাসা ভেয়ে পড়ে না। বাবুই পাখির নিখ্ু্্ঁত বুননে এই বাসা টেনে ছেঁড়াও ছিল কষ্টকর। এজন্য অনেকেই একে তাঁতিপাখি বলেও ডাকে।

উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের মহান্দী গ্রামের লিয়াকত আলী, আছাদুল ইসলাম, অমল সরদার, নন্দলাল ঘোষ ও রবিউল ইসলাম জানান, আমাদের মাঠের জমিতে রয়েছে উঁচু তালগাছ। সেখানে ১৫-১৬ বছর আগে বাবুই পাখি বাসা বেঁধে থাকত। আমরা লাঙল চষতে যেতাম আর দেখতাম ছোটো  ছোটো পাখি তালগাছের ঝুলন্ত পাতার সঙ্গে নিখুঁতভাবে বাসা বুনে থাকত, যা দেখে খুব ভালো লাগত। তবে এখন তালগাছ আছে, কিন্তু নেই বাবুই পাখির সেই বাসা।

বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দিত শৈল্পিক নিদর্শনকে টিকিয়ে রাখার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার বলে মনে করেন পরিবেশবিদরা।