রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল
আনিসুজ্জামান, রাজশাহী
প্রায় পাঁচ মাস ধরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের একমাত্র সিটিস্ক্যান মেশিনটি নষ্ট। মেশিনটি নষ্ট থাকায় প্রতিদিন হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে আসা শত শত দরিদ্র ও অসহায় রোগী বিপাকে পড়েছেন। অনেকটা বাধ্য হয়েই জিম্মি রোগীরা দালালের পছন্দের প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা ব্যয়ে সিটিস্ক্যান করাচ্ছে। অথচ হাসপাতালে খুব কম খরচে সিটিস্ক্যান করা যায়। এ নিয়ে রোগীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
জানা গেছে, ২০১৭ সালে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক সিটিস্ক্যান মেশিনটি বসানো হয়। কিন্তু মাত্র দুই বছরেই মেশিনটি একাধিকবার নষ্ট হয়। সর্বশেষ গত বছরের জুলাইয়ে সিটিস্ক্যান মেশিনটি নষ্ট হয়। গত ১২ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধিদল মেশিনটি অকেজো ঘোষণা করে এবং নতুন মেশিন সংযোজনের প্রক্রিয়ার কথা বলে যায়। কিন্তু কবে নাগাদ সেটি হবে, তা নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য দিতে পারেনি। কর্তৃপক্ষ বলছে খুব কম সময়ের মধ্যে এটা হবে।
রামেক হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে আসা রাহিমা বেগম বলেন, এটি উত্তরাঞ্চলের সবচাইতে বড়ো হাসপাতাল। এ হাসপাতালের একমাত্র সিটিস্ক্যান মেশিনটি দীর্ঘদিন নষ্ট থাকে কীভাবে? বাইরে সিটিস্ক্যান করাতে অনেক টাকা লাগবে। অথচ হাসপাতালে করাতে পারলে কম টাকায় সম্ভব ছিল। রফিকুল ইসলাম নামের আরেক রোগীর স্ত্রী দুলালী বলেন, স্বামীকে নিয়ে নাটোর থেকে চিকিত্সা করাতে এসেছেন। চিকিত্সক সিটিস্ক্যান করাতে বলেছেন। কিন্তু শুনছেন হাসপাতালের মেশিনটি নষ্ট। আরেক রোগী বাচ্চু মিয়া বলেন, চিকিত্সকের সিটিস্ক্যান করানোর পরামর্শ দেখেই দালালরা কাগজপত্র নিয়ে টানাটানি শুরু করেছে। প্রত্যেকেই নাকি কম টাকায় করে দিবে? এর আগে দালালেরা অতিরিক্ত টাকা নিয়েছিল। হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী এমনকি আনসার সদস্যদের সামনে দালালরা রোগীদের প্রকাশ্যে টানাটানি করলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয় না।
উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সিটিস্ক্যান মেশিন বসানোর প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। তবে কবে নাগাদ হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটি নির্দিষ্ট করে বলা যাবে না।