যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার বদলা হিসেবে মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মুখে চড় মেরেছে ইরান। তেহরানের এই বদলা মানুষের কাজ নয়, বরং সৃষ্টিকর্তার কাজ ছিল। যা ঘটেছে—তা সৃষ্টিকর্তার সাহায্য ছাড়া কোনো মানুষের পক্ষে করা সম্ভব নয়।
আট বছর পর গতকাল প্রথমবারের মতো তেহরানে জুমার নামাজের সময় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশের নিন্দা করে করে ইরানের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। খবর:বিবিসি ও সিএনএনের।
ইরানে জুমার নামাজে ইমামতি করার একটি প্রতীকী তাত্পর্য আছে। ইরানের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ যখন জনগণকে কোনো বার্তা দিতে চান, তখন তারা এই নামাজের দিনটি বেছে নেন। তবে সাধারণত এমন সব ধর্মীয় নেতাদেরই এই কাজটির দায়িত্ব দেওয়া হয়—যাদের উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী বক্তৃতা দেবার ক্ষমতা আছে। কিন্তু ইরান বর্তমানে এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই খামেনি নিজেই সেই দায়িত্ব পালন করলেন। ৮০ বছর বয়সি খামেনি রাজধানী তেহরানের মোসালা মসজিদ থেকে তার অনুসারীদের উদ্দেশ্যে এই বক্তৃতা করেন। তার বক্তব্যে তিনি ইরানে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দেন এবং মার্কিন নেতাদের তিনি ভাঁড় এবং মিথ্যাবাদী বলে নিন্দা করেন। ফ্রান্স, জার্মানি এবং যুক্তরাজ্যকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘হুকুম তামিলকারী চামচা’ সম্বোধন করে বলেন, তাদের ওপর আস্থা রাখা যায় না। আমাদের আলোচনায় বসতে কোনো ভয় নেই। কিন্তু আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসব না।
সোলেইমানিকে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরানে এবং ইরাকে লাখ লাখ মানুষ তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে। তাকে হত্যার ঘটনায় আমরা যতটা দুঃখ পেয়েছি, ইউক্রেনের ধ্বংসের ঘটনায় আমাদের শত্রুরা ততটাই খুশি হয়েছে। ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইউক্রেনের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা একটি ট্র্যাজেডি। এই ঘটনাটি ব্যবহার করে ইরানের শত্রুরা সোলেইমানির হত্যাকে ধামাচাপা দিতে চাইছে। তারা বিপ্লবী গার্ড ও সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে প্রশ্ন তোলার একটা সুযোগ পেয়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই বাহিনী ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের দ্বিতীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে ড্রোন থেকে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছে। বদলা হিসেবে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। ঐ দিনই ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইউক্রেনের যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৭৬ আরোহীর সবাই মারা যান। ইরান শুরুতে অস্বীকার করলেও পরে দায় স্বীকার করে। এরপর দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, খামেনির কথায় স্পষ্ট, নানা অস্থিরতা সত্ত্বেও ইরানের সরকার তাদের বর্তমান ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে চায়, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা যেসব দাবি জানাচ্ছে, তাদের ছাড় দেওয়ার কোনো ইচ্ছে কর্তৃপক্ষের নেই।