ফতুল্লায় বাবা ও সত্ মায়ের বিরুদ্ধে যুবক দুই ছেলেকে ঘরের ভেতর লোহার খাঁচায় এক বছর ধরে বন্দি রেখে ব্যাপক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। দিনের পর দিন খাবার না দিয়ে মারধরের কারণে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হেমায়েত হোসেন সুমন (৩৫) নামে এক ছেলে মারা যান। এ সময় আরেক ছেলের চিত্কারে আশপাশের লোকজন এসে পুলিশকে খবর দেয়। এরপর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে অপর ছেলে সাফায়েত হোসেন রাজুকে তালাবদ্ধ ঘর থেকে উদ্ধার করে। তবে এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে আটক করেনি। ফতুল্লার দক্ষিণ রসুলপুর এলাকায় হাবিবুল্লাহ ক্যাশিয়ারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
হাবিবুল্লাহর বড়ো ছেলে সুমন এবং রাজু দ্বিতীয় ছেলে। এদিকে হাবিবুল্লাহ দাবি করেন তার ঐ দুই ছেলে মানসিক রোগী। তাই তাদের ঘরে বন্দি রেখে চিকিত্সা করানো হচ্ছে। জানা গেছে, হাবিবুল্লাহর তিনটি টিন সেড বিল্ডিং বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি বাড়িতে তিনি ৪র্থ স্ত্রীকে নিয়ে বাস করেন। দীর্ঘদিন তিনি কাজী নজরুল কলেজে ক্যাশিয়ার পদে চাকরি করেছেন। সম্প্রতি তিনি সেখান থেকে অবসরে আসেন। উদ্ধার হওয়া ছেলে রাজুর বলেন, নোয়াখালী জেলার রামনগর কে এম সি হাই স্কুলে ৮ম শ্রেণিতে পড়ার সময় তার মা মোহসেনা বেগম ইন্তেকাল করেন। এরপর তার লেখাপড়া বাদ দিয়ে তাকে ফতুল্লায় নিয়ে আসেন বাবা হাবিবুল্লাহ। এর কিছু দিন পর তার ছোটো খালা কহিনুর বেগমকে বিয়ে করেন বাবা হাবিবুল্লাহ। কহিনুর বেগমও কিছুদিন পর ইন্তেকাল করেন। পরে আরেকজনকে বিয়ে করেন। তিনি বিবাহ বিচ্ছেদ করে চলে যান। তারপর এক বছর পূর্বে হনুফা বেগম নামে আরেক জনকে বিয়ে করেন। এরপর থেকে তাদের দুই ভাই সুমন ও রাজুর ওপর নির্যাতন চালানো হয়। দুই ভাইকে দুইটি রুমে এক বছর তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। কখনো খাবার দেওয়া হয় আবার কখনো লাঠি দিয়ে বাবা ও সত্ মা মারধর করেন।
রাজু আরো জানান, কয়েকদিন আগে রাতে সুমনকে অনেক মারধর করে। এরপর তিনি সারারাত কান্নাকাটি করেছেন। তখন আমি অনেক চিত্কার করে আশপাশের লোকজনদের ডাকাডাকি করেছি কিন্তু আমার বাবা ও সত্ মায়ের ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেননি। আমি ও আমার ভাই পাগল না। আমার বাবা যে সম্পদ জমি তার দাবি করেন। সে জমির অর্ধেক মালিক আমার মা মোহসেনা বেগম। এ জমি একাই তার বাবা ও সত্ মা আত্মসাত্ করার জন্য তাদের দুই ভাইকে পাগল আখ্যা দিয়ে ঘরে আটক রেখে নির্যাতন করতেন। তার বড়ো ভাই সুমন নির্যাতনেই মারা গেছেন।
হাবিবুল্লাহ তার দ্বিতীয় ছেলে রাজুর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার পাঁচ সন্তান। দুজন মানসিক রোগী। অপর তিন জনের মধ্যে মোহন, শাহিন ও শাকিল লেখাপড়া করে। বড়ো ছেলে অসুস্থ হয়েই মারা গেছে। ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফজলুল হক জানান, সুমনের শরীরের পেছনে পচন ধরেছে। আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। আরেকজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে তার বাবা হাবিবুল্লাহর কাছে রাখা হয়েছে। তাকে যেন আর বন্দি করা না হয় সে বিষয়ে কঠোর ভাবে বলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।