চরাঞ্চলের রোগী পরিবহনে শরীয়তপুর ভোলায় যুক্ত হলো তিন নৌ-অ্যাম্বুলেন্স

ইত্তেফাক ডেস্ক

শরীয়তপুর ও ভোলার নৌ-নির্ভর চরাঞ্চলবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স। শরীয়তপুরের নড়িয়া ও জাজিরায় একটি করে এবং ভোলার তজুমদ্দিনে একটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়। চরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপহার হিসেবে নৌ-অ্যাম্বুলেন্সগুলো দিয়েছেন। নৌ-অ্যাম্বুলেন্সগুলো উপজেলাগুলোতে গেলে উত্সুক মানুষ ভিড় করে সেগুলো দেখতে। ইত্তেফাকের শরীয়তপুর প্রতিনিধি ও তজুমদ্দিন (ভোলা) সংবাদদাতার পাঠানো খবর।

শরীয়তপুর : গত রবিবার নড়িয়ায় এবং বৃহস্পতিবার জাজিরায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তাদের কাছে নৌ-অ্যামু্বলেন্স দুটি হস্তান্তর করা হয়। জাজিরার নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি বৃহস্পতিবার হস্তান্তর করেন শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসে অপু। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, নড়িয়ায় ১৫টি ইউনিয়ন রয়েছে। ঐ ইউনিয়নের মানুষ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা নিয়ে থাকেন। গুরুত্বপূর্ণ ও মুমূর্ষু রোগীদের আনা-নেওয়া করার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। যেটি পাকা সড়ক পথে চলে। আর জাজিরায় ১১টি ইউনিয়ন রয়েছে। ঐ উপজেলার মানুষও সড়ক পথে একটি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করে। চরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার জন্য কোনো নৌ-যান ছিল না।

নড়িয়ার উপজেলার চরআত্রা, নওপাড়া ইউনিয়ন সম্পূর্ণ ও ঘরিসার ইউনিয়নের কিছু অংশ পদ্মা নদীর উত্তর তীরে অবস্থিত। জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর ও নাওডোবা ইউনিয়নের একটি অংশ পদ্মা নদীর উত্তর তীরে অবস্থিত। ঐ এলাকায় অন্তত ৪ লাখ মানুষের বসবাস। ঐ সকল মানুষ ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও নৌকা দিয়ে যাতায়াত করেন। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নৌকা ও ট্রলারে করে হাসপাতালে আনা-নেওয়া করতে হয়। স্থানীয় দুই সংসদ সদস্য এনামুল হক শামীম ও ইকবাল হোসেন অপু গত সংসদ নির্বাচনের সময় প্রচারণায় গেলে ঐ চরাঞ্চলের মানুষ তাদের এ অসহায় অবস্থা তুলে ধরেন। তখন তারা নির্বাচিত হলে নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে চরাঞ্চলের রোগী পরিবহনের জন্য নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চেয়ে চিঠি দেন ঐ দুই সংসদ সদস্য। এর প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিউনিটি বেইজড হেলথ কেয়ার প্রকল্পের আওতায় দুটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ আজগর সোহেল মুন্সি বলেন, নৌপথই আমাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। বর্ষা মৌসুমে নদী উত্তাল থাকে তখন নৌকা ও ট্রলারে পারাপার হওয়া যায় না। এমন পরিস্থিতিতে অসুস্থ ব্যক্তিদের নিয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয়, এ কারণে চিকিত্সা না নিতে পেরে অনেক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এখন নৌ অ্যামু্বলেন্স দেওয়ায় সে সমস্যা আর থাকবে না। সহজেই চরের মানুষ জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারবে।

নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ২০০ সিসি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি দিয়ে সহজে চরাঞ্চলের রোগীদের সেবা দেওয়া যাবে। সড়ক পথে ঢাকায় যেতে অনেক সময় প্রয়োজন হয়। সে ক্ষেত্রে জরুরি ও মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুত ঢাকায় নিতে নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করা যাবে।

পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনমুল হক শামীম বলেন, চরাঞ্চলের মানুষ অনেক সংগ্রাম করে জীবন ধারণ করেন। তারা অনেক মৌলিক অধিকার বঞ্চিত থাকে। আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল তাদের দ্রুত চিকিত্সাসেবা নিশ্চিত করতে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হবে। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এক বছরের মধ্যেই প্রতিশ্রুতি রাখতে পেরেছি। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

তজুমদ্দিন (ভোলা) : ভোলা জেলার তজুমদ্দিন উপজেলার মূল-ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন চরাঞ্চল নৌপথনির্ভর। চারদিকে নদী বেষ্টিত এসব জনপদের মানুষের দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স পেয়েছে তজুমদ্দিন উপজেলাবাসী। শিগগির এটি উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা।

বৃহস্পতিবার সকালে নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি তজুমদ্দিন স্লুইস গেটে আসার পর এটি দেখতে উত্সুক জনতা ঘাটে ভিড় জমায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, তজুমদ্দিন উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চর জহির উদ্দিন, চর মোজ্জাম্মেল, চর নাসরিন, সিডার চরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ বসবাস করছে। এসব মানুষের ভোলা জেলা কিংবা উপজেলার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে ইঞ্জিনচালিত কাঠের ট্রলার। এসব চরাঞ্চলে উন্নত স্বাস্থ্যসেবার জন্য নেই সরকারি-বেসরকারি কোনো হাসপাতাল। হঠাত্ করে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিত্সার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা জেলা সদর হাসপাতালে আসতে হয় নদী পথে ঝুঁকিপূর্ণ ট্রলারযোগে। রোগীদের দ্রুত যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় বিনা চিকিত্সায় মৃত্যুর কারণ ঘটে চরবাসীর। এ উপজেলার অন্তর্গত দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ নূরুন্নবী চৌধুরী শাওনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স পেয়ে আনন্দিত তজুমদ্দিনবাসী।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কবির সোহেল বলেন, এই অ্যাম্বুলেন্সের ফলে চরাঞ্চলের প্রসূতি মা ও জরুরি রোগীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুত এসে চিকিত্সা সেবা নিতে পারবে। আমি নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি রিসিভ করার পর এমপি মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। খুব শিগগির এটি তিনি উদ্বোধন করবেন।