প্রথম ৯০ দিনে মৌলিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে :তাপস

সিটি নির্বাচনের আমেজ ছড়িয়েছে রাজধানীর অলিগলিতে। ব্যানার, ফেস্টুন আর পোস্টারে ঢাকা এখন সেজেছে এক নতুন রূপে। গতকাল শুক্রবারও প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছড়িয়ে বিরামহীন প্রচারণা চালান আওয়ামী লীগের দুই মেয়র পদপ্রার্থী। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, বিজয়ী হতে পারলে দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে প্রথম ৯০ দিনে ঢাকাবাসীর মৌলিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচিত হলে কাউন্সিলর ও এলাকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতি মাসে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে টাউন হল মিটিং করে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।

ব্যারিস্টার তাপস গতকাল রাজধানীর লালবাগ, চকবাজার ও বংশাল থানার বিভিন্ন ওয়ার্ডসহ পুরান ঢাকার অলিগলিতে গণসংযোগ, পথসভা ও প্রচারণা চালান। এ সময় নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তাপস বলেন, ‘এটা আদালত ও নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ার। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাইবোনদের বিষয়টা আবেগের সঙ্গে জড়িত। এটা নির্বাচন কমিশন বিবেচনা করেলে অবশ্যই ভালো হয়।’ তাপস বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী যখন অভিযোগ নিয়ে ব্যস্ত, সেখানে আমরা আমাদের প্রচারণার কাজে ব্যস্ত। আমিই হয়তো-বা একমাত্র মেয়র পদে প্রার্থী, যিনি ঐতিহ্যবাহী ঢাকাকে নিয়ে চিন্তা করে সুনির্দিষ্ট উন্নয়নের রূপরেখা দিয়েছি। আমরা মৌলিক যে পাঁচটি উন্নয়নের রূপরেখা দিয়েছি, তার পুরোটাই হলো আমাদের ঐতিহ্যবাহী ঢাকাকে নিয়ে। আর এই রূপরেখায় নগরবাসীর ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তাই ৩০ জানুয়ারি নির্বাচনে আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত ইনশাল্লাহ।’ তিনি বলেন, ‘আমরা ঢাকাকে ভালোবাসি, ঢাকা আমাদের গর্বের। আমাদের গর্বকে পুনরুদ্ধার করতে চাই। সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য পুনর্জীবিত করব এবং উন্নত ঢাকা গড়ে তুলব ইনশাআল্লাহ।’ ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত সুষ্ঠু পরিবেশে গণসংযোগ করছি। কোনো রকম আচরণবিধি লঙ্ঘনের অবকাশ নেই। নেতাকর্মী ও জনগণের মধ্যে একটি উত্সবমুখর পরিবেশ আছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্সব বিরাজ করছে, চারদিকে নির্বাচনের আমেজ রয়েছে।’ প্রচারণায় ব্যারিস্টার তাপসের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদসহ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ও বিপুলসংখ্যক স্থানীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ করা গেছে।

ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম গতকাল ডিএনসিসির ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাউনিয়া মোড়, কালীবাড়ি, বালুরঘাট, মানিকদি, মাটিকাটা, লালসরাই, ভাষানটেক, বাইগারটেক, আলব্দীটেক, বারনকোট, দামালকোট, বিআরবি কলোনিসহ ঢাকা ১৪ নম্বর আসন এলাকায় নৌকার পক্ষে ভোট চান। এ সময় আতিকুল ইসলাম ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে সিটি করপোরেশনের সবাইকে জবাবদিহির আওতায় আনব। এলাকার যত সমস্যা আছে, যেগুলোর সমাধান হয়নি, যেসব উন্নয়নকাজ বাকি আছে সেগুলো সমাধান করা হবে। এছাড়া কোন কাজগুলো আগে করতে হবে, অর্থাত্ সমস্যা চিহ্নিত এবং তার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে টাউন হল মিটিংয়ে, যার মাধ্যমে জনগণের কাছে আমাদের সবার জবাবদিহি থাকবে।’

আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হলে সিটি করপোরেশন ও আমাদের যা আছে, তাই দিয়ে জনগণের সেবা করে যাব। জনগণের কাছে এটি আমার অঙ্গীকার।’ নির্বাচিত হলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাউনিয়া এলাকায় প্রশস্ত সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলে জানান আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, যেখানে ২০ ফুট রাস্তা আছে, সেটিকে অন্তত ৬০ ফুট করতে হবে। আপনারা এ এলাকায় স্যুয়ারেজ লাইনসহ প্রশস্ত রাস্তা চেয়েছেন। ইনশাআল্লাহ আমি দায়িত্ব নিলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে এখানে প্রশস্ত রাস্তা হবে। স্যুয়ারেজ লাইন থাকবে, বাতি থাকবে।’ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘নৌকার কোনো ব্যাকগিয়ার নেই, নৌকার আছে শুধু ফ্রন্টগিয়ার। আর এই ফ্রন্টগিয়ার মানে শুধু উন্নয়নের গিয়ার। ৯ মাস দায়িত্ব পালনকালে আমরা নানা সমস্যা চিহ্নিত করেছি, সেসব সমস্যা সমাধানে পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি আপনারা যদি আমাকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন, তাহলে ফুটপাত, এলইডি লাইট, ড্রেনেজ, রাস্তাসহ আধুনিক পরিকল্পিত বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার কাজ করব ইনশাআল্লাহ।’

আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সংবিধানেও আছে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, এটা কিন্তু প্রমাণিত হয়েছে বারবার। আমি ইসিকে বৃহস্পতিবারও অনুরোধ করেছি আজকেও (শুক্রবার) বলছি, যদি সুযোগ থাকে পূজার দিনটা যেন নির্বাচনের দিন না হয়। আমি অনুরোধ করছি নির্বাচন পেছানোর জন্য।’ আতিক বলেন, তিনি কথার চেয়ে কাজে বেশি বিশ্বাস করেন। নির্বাচিত হলে সব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করবেন তিনি। নির্বাচনী গণসংযোগের অষ্টম দিনে আতিকুল ইসলামের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটির নেতারা।