বঙ্গবন্ধু বিপিএলের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী

তখনো ১৪ বলে ৩৭ রান দরকার ছিল খুলনা টাইগার্সের। আন্দ্রে রাসেলের ইয়র্কারটা জায়গা করে নিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু বলে-ব্যাটে করতে পারেননি। স্ট্যাম্প ভেঙে যায়। ভগ্ন মনরথে ফেরা মুশফিকের পা যেন চলছিল না। মাঠ থেকে হাঁটা পথে ড্রেসিংরুমের দূরত্বটা তখন যেন হাজার মাইল হয়ে গিয়েছিল মুশফিকের জন্য! তার বিদায়েই খুলনার ট্রফি জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়।

ছয়বার ব্যর্থতার পর বিপিএল ফাইনালের নাগাল পেয়েছিলেন মুশফিক। সপ্তম চেষ্টায় প্রথমবার ফাইনালে আসলেও ট্রফির স্বাদ অধরাই থাকল তার। দর্শকে ঠাসা মিরপুর স্টেডিয়ামে গতকাল খুলনাকে ২১ রানে পরাজিত করে বঙ্গবন্ধু বিপিএলের শিরোপা জিতল রাজশাহী রয়্যালস। বিপিএল পেল নতুন চ্যাম্পিয়ন।

টসে হেরে আগে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ১৭০ রান তুলেছিল রাজশাহী। জবাবে ৮ উইকেটে ১৪৯ রানের বেশি তুলতে পারেনি খুলনা।

রান তাড়া করতে নেমে ১১ রানেই দুই ওপেনারকে হারায় খুলনা। শান্ত (০), মিরাজ (২) ব্যর্থ হলেও দলের হাল ধরেন শামসুর রহমান ও রাইলি রুশো। ব্যক্তিগত ১৮ রানে জীবন পান রুশো। পয়েন্টে সহজ ক্যাচ ফেলেন রাহী। শামসুর-রুশোর ৭৪ রানের জুটি ভেঙে দলকে ব্রেক থ্রু এনে দেন নেওয়াজ। লং অনে ক্যাচ দেওয়ার আগে রুশো ৩৭ রান করেন। ১৪তম ওভারে খুলনাকে বড়ো ধাক্কা দেন কামরুল ইসলাম রাব্বি। তার শিকার হয়ে ফিরেন শামসুর ও নাজিবউল্লাহ জাদরান (৪)। শামসুর ৪৩ বলে ৫২ রান করেন।

১০৫ রানে ৫ উইকেট হারানো খুলনার ভরসা হয়েছিলেন মুশফিক-ফ্রাইলিঙ্ক। ১৮তম ওভারে মুশফিক ফিরেন ১৫ বলে ২১ রান করে। পরের ফ্রাইলিঙ্ককে (১২) ফেরত পাঠান ইরফান। শেষ ওভারে রাসেলের দ্বিতীয় শিকার হন শহীদুল (০)। রাজশাহীর পক্ষে ইরফান, রাসেল, কামরুল ইসলাম রাব্বি দুইটি করে উইকেট নেন।

এর আগে রাজশাহীর স্কোরটা লাগামের বাইরে যেতে দেননি খুলনার চার পেসার। গোটা টুর্নামেন্টের মতো গতকাল ফাইনালেও আমির-ফ্রাইলিঙ্ক-শফিউল-শহীদুলরা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন। তাদের শৃঙ্খল ভাঙতে পেরেছেন শুধু রাজশাহীর তিন ব্যাটসম্যান। ইরফান শুক্কুরের হাফ সেঞ্চুরি করেন এবং শেষ দিকে নেওয়াজ, আন্দ্রে রাসেলের ঝড়ো ব্যাটিং করেন।

ইনিংসের তৃতীয় ওভারে আফিফ (১০) আমিরের শিকার হন। রান তুলতে সংগ্রাম করা লিটন ফিরেন ১০ম ওভারে। তিনি ২৫ রান করেন। সুবিধা করতে পারেননি শোয়েব মালিকও (৯)। একপ্রান্ত আগলে ৩০ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন শুক্কুর। কিন্তু হাফ সেঞ্চুরির পরই আউট হন তিনি। ৩৫ বলে ৫২ রান (৬ চার, ২ ছয়) করেন শুক্কুর। ৯৯ রানে ৪ উইকেট পতনের পর বাকি পথটা পাড়ি দিয়েছেন নেওয়াজ-রাসেল।

তারা ৭১ রানের জুটি গড়েন। তাদের ব্যাটে শেষ চার ওভারে ৬৩ রান তোলে রাজশাহী। ১৮তম ওভারে ২১, ১৯তম ওভারে ১৮ ও শেষ ওভারে ১৫ রান আসে। রাসেল থাকলেও ব্যাট হাতে তোপ দাগিয়েছেন নেওয়াজ। পাকিস্তানি এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান পরিস্থিতির দাবি মিটিয়েছেন ভালোভাবে। নেওয়াজ ২০ বলে অপরাজিত ৪১ রানের (৬ চার, ২ ছয়) ইনিংস খেলেন। ১৬ বলে তিনটি ছক্কায় অপরাজিত ২৭ রান করেন রাসেল। খুলনার আমির দুটি, ফ্রাইলিঙ্ক-শহীদুল একটি করে উইকেট নেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর                      

রাজশাহী রয়্যালস : ২০ ওভারে ১৭০/৪

খুলনা টাইগার্স : ২০ ওভারে ১৪৯/৮

ফল :রাজশাহী রয়্যালস ২১ রানে জয়ী

 

বিপিএলে রাজশাহী রয়্যালস চ্যাম্পিয়ন

হওয়ায় নগরীজুড়ে আনন্দ-উচ্ছাস

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী জানান, রাজশাহী রয়্যালস চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দের জোয়ারে ভাসছে রাজশাহী মহানগরী। শুক্রবার রাতে বিপিএল সপ্তম আসরের ফাইনালে মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বাধীন খুলনা টাইগারর্সের হার নিশ্চিত হওয়ার পরপরই শতশত মানুষ আনন্দে নেমে আসে নগরীর রাস্তায়। রাত পৌণে ১২টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নগরীর সহেববাজার জিরোপয়েন্ট, শহীদ কামারুজ্জামান চত্ত্বর রেলগেট), লক্ষীপুর মোড়, ভদ্রা মোড়, তালাইমারী মোড়, কাজলা ও বিনোদপুরসহ নগরীতে বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষ আন্দ্রে রাসেলের নেতৃত্বাধীন রাজশাহী রয়্যালসকে অভিনন্দন জানিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দিচ্ছিল।