টঙ্গীতে শ্বাসরোধ গৃহবধূকে হত্যা স্বামী পলাতক

টঙ্গীর শিলমুন এলাকায় যৌতুকের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে সাথী আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাবলু রহমান বাদী হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, এক বছর পূর্বে ঐ এলাকার বাসিন্দা মোনতাজ উদ্দিনের ছেলে সারোয়ার হোসেন বাবুর (২৯) সঙ্গে যশোহর জেলার বেনাপোল পোর্ট থানার শাখারী পোতা গ্রামের বাবলু রহমানের মেয়ে সাথী আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সারোয়ার হোসেন বাবু তার বাবা মোনতাজ উদ্দিন ওরফে মমতাজ, মা সালেহা বেগম, বড়ো ভাই সালাহ উদ্দিন এবং স্ত্রীকে নিয়ে টঙ্গীর শিলমুন পূর্ব পাড়ার মাহাতাব উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিল। এছাড়া বিয়ের পর থেকে স্বামীসহ পরিবারের লোকজন সাথীর বাবা ও তার পরিবারের লোকজনের কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিল। যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় সাথী আক্তারের স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও ভাসুর মিলে সাথীকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো। একপর্যায়ে মেয়ের সুখের কথা ভেবে বাবা বাবলু রহমান তার মেয়ের জামাই সারোয়ার হোসেন বাবুকে ২ লাখ টাকা দেয়। যৌতুকের দাবিকৃত বাকি ৩ লাখ টাকার জন্য পুনরায় সাথী আক্তারের ওপর শুরু করে অত্যাচার। গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে সারোয়ার হোসেন বাবুসহ তার পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে সাথী আক্তারের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। টঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।