ডেইরি সেক্টরে ৫০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েছে সরকারের

প্রাণীজ আমিষের অন্যতম ডেইরি সেক্টর তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে আছে উল্লেখ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খসরু বলেছেন, ডেইরি সেক্টরের উন্নয়নে ৫০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশে দুধের ঘাটতি মেটানো সম্ভব হবে।

শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে বাংলাদেশ অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বাহা) দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী । তিনি বলেছেন, জাতির মেধা বিকাশে প্রাণীজ আমিষের বিকল্প নেই। সু-স্বাস্থ্য ও মেধায় অগ্রগামী হতে না পারলে, দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে উন্নত শিক্ষা ও গবেষণা দরকার। দেশের প্রাণীজ আমিষের একটা অংশ পোল্ট্রি সেক্টর থেকে আসে।

সম্মেলনে ‘বাংলাদেশে নিরাপদ প্রাণীজ আমিষ উৎপাদনের দৃষ্টিভঙ্গি’ নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পশুপুষ্টি বিভাগের অধ্যাপক ড. খান মো. সাইফুল ইসলাম। 

মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, গত ১০ বছরে বাংলাদেশে মানুষের খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে প্রাণিসম্পদেরও আমূল পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দুধ, ডিম ও মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় পাঁচ গুণ। বর্তমানে দেশের মানুষ মাথাপিছু গড়ে প্রতিদিন ১৬৫ মিলি দুধ, ১২৫ গ্রাম মাংস এবং বছরে ১০৪টি ডিম খেতে পারছে। প্রাণিসম্পদের এ উন্নয়নে পশুপালন গ্র্যাজুয়েটদের অবদান অনস্বীকার্য। তবে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তায় জোর দিতে হবে।

এছাড়াও সম্মেলনের টেকনিক্যাল সেশনে ৫০টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়।

আরও পড়ুন: বরিশালে পল্টুন ডুবে ট্রাক নদীতে

সম্মেলনে বাহার সভাপতি ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জসিমউদ্দিন খান।  

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মো. জাকির হোসেন আকন্দ, পশুপালন অনুষদের ডিন এবং বাকৃবি ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আব্দুল জব্বার শিকদার এবং বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ড. নাথু রাম সরকার। 

ইত্তেফাক/আরআই