সৃজনশীল ও ব্যাকরণ উভয় অংশেই গুরুত্ব দিতে হবে সমানভাবে

বাংলা দ্বিতীয়পত্র

মো. সুজাউদ দৌলা

সহকারী অধ্যাপক (বাংলা) 

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা

 

 

 

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিও।  ১০০ নাম্বার বরাদ্দ রয়েছে বাংলা দ্বিতীয়পত্র বিষয়টির জন্যে। রচনামূলক বা সৃজনশীল অংশে ৭০ যার মধ্যে অনুচ্ছেদ লিখন -এ ১০ সারাংশ/সারমর্মে ১০ ভাবসমপ্রসারণে ১০চিঠিপত্রে ১০, প্রতিবেদন তৈরিতে ১০ ও রচনায় থাকবে ২০। পুরো ব্যাকরণ অংশ থেকে এবার ৩০ নাম্বার থাকবে।

ভুল উত্তর দেওয়া ও অপ্রাসঙ্গিক উত্তর পরিহার করতে হবে। ভাবসমপ্রসারণ, সারাংশ ও রচনায় অপ্রাসঙ্গিক কিছু লিখলে সেটির মান কমে যেতে পারে। তুমি মনে করতে পার, যত বেশি লেখা যাবে তত বেশি নম্বর পাবে, আসলে তা ঠিক নয়। তাই এ বিষয়ে সচেতন থাকবে। মনে রাখবে, গঠনমূলক লেখা ছোটো হলেও পুরো নাম্বার পেতে সহায়ক হয়।

অনুচ্ছেদ লিখনের ক্ষেত্রে অবশ্যই বাংলা প্রথমপত্র বইয়ের গদ্য-কবিতার মূল বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিবে। এ অংশ একটি নতুন সংযোজন অতএব উত্তরের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক ভাষা ও গঠনমূলক বাক্য ব্যবহার করবে। অনুচ্ছেদে এক প্যারার বাইরে কোনোভাবেই প্যারা করবে না। সাধু-চলিত ভাষা একই প্রশ্নের উত্তরে ব্যবহার করা যাবে না। যেকোনো বর্ণনামূলক রচনায় এ ব্যাপারটি অবশ্যই খেয়াল রাখবে।

প্রতিবেদন বিষয়টিও নতুন সংযোজন করা হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক ও পত্রিকায় প্রকাশের জন্যে সংবাদ প্রতিবেদন, এ দুটি পড়লেই পেয়ে যাবে। প্রতিবেদন প্রণয়নের ক্ষেত্রে তোমরা যা শিখেছো সেভাবেই উত্তর করবে। পত্রিকার প্রতিবেদনে তোমরা শিরোনাম ব্যবহার করে, প্রতিবেদকের নাম, স্থান, তারিখ উল্লেখ করে লিখলেই ভালো করবে। প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদনে অবশ্যই প্রতিষ্ঠান প্রধান বরাবর বিষয়ও সূত্রসহ প্রতিবেদন পেশ করবে।

ভাবসমপ্রসারণ তিন প্যারায় লেখায় শ্রেয়। প্যারার নাম উল্লেখ­না করাই ভালো। মূল ভাব নিজের ভাষায় ব্যাখ্যা দেবে, সম্প্রসারিতভাব ও মন্তব্য অংশ প্যারা করলে ভালো হবে। মনে রাখা দরকার ভাবসম্প্রসারণে উপমা, উদাহরণ বা কোটেশন হুবহু না করে তা বিশ্লেষণাত্মক হওয়া উচিত। প্রশ্নে উল্লিখিত সারাংশ বা সারমর্ম দুবার পড়বে। সহজ, সরল ও প্রাঞ্জল ভাষায় মূল উত্তর টুকু তিন বা চার বাক্যে লিখবে। এখানেও কোনো উদাহরণ, দৃষ্টান্ত, উপমা বা অপ্রাসঙ্গিক অথবা হুবহু প্রশ্ন থেকে উত্তর তুলে দিবে না।

চিঠিপত্র পুরোনো ও আধুনিক— যেকোনো নিয়মেই লেখা যায়, তবে বোর্ডের রচনা সম্ভার বইটি অনুসরণ করবে। ব্যক্তিগত, আবেদনপত্র ও পত্রিকার প্রকাশের পত্র—এ তিনটি নিয়ম অবশ্যই আত্মস্থ রাখবে। পত্রিকায় প্রকাশের পত্র এসএসসি পরীক্ষার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে আমরা মনে করে থাকি।

রচনামূলক অংশের বড় জায়গা জুড়ে আছে প্রবন্ধ-রচনা। প্রয়োজনীয় কোটেশন ও কবিতার লাইন সংযোজন করবে। বোর্ডের রচনা বইটিকে অবশ্যই মূলভিত্তি হিসেবে ধরে নিয়ে কিছু প্রাসঙ্গিক আলোচনা অন্য রচনার বই থেকে সংগ্রহ করবে। রচনায় উপশিরোনাম দিবে। রচনাতে উদ্ধৃতি -তথ্য-তত্ত্ব-উপাত্ত যতটুক ুপারা যায় দেয়া ভালো।

বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তর হলো বেশি নম্বর পাওয়ার সিঁড়ি। পাঠ্যপুস্তকে রঙিন কলম দিয়ে সম্ভাব্য বহুনির্বাচনি প্রশ্নগুলোয় দাগ দিয়ে রেখেছো আশা করছি। অনুশীলন হলো বহুনির্বাচনি শিক্ষার ভিত্তি। যত বেশি পড়বে, মনে তত বেশি ধারণ করবে। মনে রাখা দরকার, ব্যাকরণ বই থেকেই প্রশ্ন হবে অহেতুক বাজারের বড়বড় ব্যাকরণ বই/গাইড পড়ার প্রয়োজন নেই। ব্যাকরণ চর্চা করবে যত পারো ততবার। নৈর্ব্যক্তিকের বৃত্ত ভরাট বা গোল পূরণ করবে কোনো প্রকার টিক চিহ্ন দিবে না।