পদার্থবিজ্ঞান
ড. মো. মনসুর আলী, প্রভাষক
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল ও কলেজ, ঢাকা
পদার্থবিজ্ঞান দর্শন ও গণিতের সাথে সম্পর্কিত একটি বিষয় । এটিকে ব্যাখ্যা করার জন্য গাণিতিক যুক্তি দেখাতে হয়। তাই কিছু সূত্র মুখস্থ করতে হয়। বর্তমান সৃজনশীল প্রশ্নে কোনো বৈজ্ঞানিক ঘটনা অথবা গাণিতিক সমস্যা উদ্দীপক হিবেবে থাকে। এ সৃজনশীল প্রশ্নে ৪টি অংশ থাকে।
জ্ঞানমূলক: (ক) এ ধরনের প্রশ্নগুলি উদ্দীপকের সাথে সম্পর্কিত হবে না, এবং প্রশ্নগুলি স্মৃতি নির্ভর, তাই এ গুলি মুখস্থ করতে হবে। এটি কমপক্ষে ১টি বাক্যে শেষ করতে হয়।এ ধরনের প্রশ্নগুলি বই থেকে আসবে। তাই পাঠ্যবইটি সম্পূর্ণ ভালো করে পড়তে হবে। যেমন- মাত্রা কাকে বলে, ভেক্টর কাকে বলে,জড়তা কাকে বলে? সলিনয়েড কাকে বলে, বল কাকে বলে? বিভব কাকে বলে? চাপ কাকে বলে?
অনুধাবন:(খ):এ ধরনের প্রশ্নগুলিও উদ্দীপকের সাথে সম্পর্কিত হবে না, প্রশ্নগুলি ভিন্নভিন্ ্নশিক্ষার্থীর বিভিন্ন উত্তর হতে পারে, বই তে হুবুহু উত্তর থাকবে না, তাই এ গুলি বোঝে লিখতে হবে। এটির উত্তর কমপক্ষে ৩/৪ টি বাক্যে শেষ করতে হয়। যেমন- ব্যাখ্যা কর, কারণ কী? বেগ/ ত্বরণ/ বললব্ধ রাশি-ব্যাখ্যা কর, ছোট ঘরে প্রতিধ্বনি শোনা যায় না কেন, মহাকর্ষ ধ্রবক স্কেলার রাশি কেন, অভিকর্ষ এক ধরনের মহাকর্ষ- ব্যাখ্যা কর, কোনো বাল্বেও গায়ে ২২০- ১০০ ্অর্থ কি ? রোধের মান বাড়লে তাপ শক্তি বাড়ে -ুব্যাখ্যা কর ,তাপমাত্রা বাড়ালে আধাপরিবাহীর রোধ কমে কেন? আলোর বেগ প্রতিসরাংক নির্ভর- ব্যাখ্যা কর, তাই পাঠ্য বই ভালো করে পড়তে হবে।
প্রয়োগ স্তর( গ): এ স্তরের প্রশ্ন উদ্দীপকের আলোকে লিখতে হয় । এ স্তরে গাণিতিক সমস্যার সমাধান করতে বলা হয়। তাই পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্র গুলিমুখস্থ করতে হবে। এখানে (গ) গনণা ভুল করলে পরবর্তী স্তর(ঘ) ব্যাখ্যা করা কঠিন হবে। তাই খুব সতর্কতার সাথে অংক করতে হবে। এ স্তরে উদ্দীপকে কী কী তথ্য দেওয়া আছে তা ডান পাশে লিখে তথ্যগুলি কোনসূত্র কে সমর্থন তা বাম পাশে লিখতে হবে। এরপর একক সহ মানগুলো বসাতে হবে। গনণার পর গনণাকৃত লব্ধমরাশির একক বসাতে হবে। মনে রাখবে, এ স্তরে প্রতিটি রাশি প্রতিস্থাপনের জন্য পৃথক পৃথক নম্বর বরাদ্দ আছে । গ-প্রশ্নে উদ্দীপকের প্রদত্তরাশি,সূত্র,একক লিখলে কিছু নম্বর পাওয়া যাবে। তাই কিছ ুনা কিছু লিখতে হবে।
উচ্চতর দক্ষতা(ঘ):এ স্তরে প্রয়োগ স্তরে (গ) প্রাপ্ত ফলাফলের অথবা উদ্দীপকে উল্লেখিত তথ্যের ভিত্তিতে তোমার বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভংগী অথবা মতামত ব্যাখ্যা করতে বলা হয়। এ স্তরেও কিছু গানিণিক সমস্যার সমাধান করতে হয়। প্রশ্ন গুলি হতে পারে , যেমন- গাণিতিক ব্যাখ্য দাও, সমর্থন করে কিনা ,সম্ভব কিনা, সঠিক কিনা, পারবে কিনা , । এসব উত্তরগুলো গাণিতিক সমাধান করার পরে তোমার নিজের ভাষায় ব্যাখ্যা করবে । শুধু গাণিতিক সমাধান করলেই হবে না, ভাষায় কিছু লিখতে হবে। সময়ের প্রতি লক্ষ্য রাখবে, ৮টি প্রশ্নের ভেতর থেকে ৫টির উত্তর করতে হবে। প্রতিটি প্রশ্নের জন্য ৩১ মিনিট সময় পাবে।