হিসাববিজ্ঞান
নির্মল ইন্দু সরকার
প্রভাষক-সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল এন্ড কলেজ,ঢাকা।
সময়ের পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তন হয়েছে আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও পরীক্ষা পদ্ধতির। পরিবর্তন ও পরিমার্জন করে সময় উপযোগী ও বিশ্ব মানের করা হয়েছে প্রতিটি বিষয়ের কারিকুলাম। আমাদের দেশে প্রচলিত কাঠামোবদ্ধ পরীক্ষা পদ্ধতিতে হিসাববিজ্ঞানকে প্রায়োগিক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে এর কারিকুলাম ও প্রশ্নপত্র কাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে। হিসাববিজ্ঞান প্রশ্নের ১০০ নম্বরের মধ্যে বহুনির্বাচনি অংশ ৩০ অন্যান্য বিষয়ের মতই কিন্তু সৃজনশীল অংশ ৭০ এর প্রশ্নপত্র কাঠামো অন্যান্য বিষয়ের মত সাজানো হয়নি। সৃজনশীল অংশ সম্পূর্ণ প্রয়োগ স্তরের। এখানে প্রতিটি উদ্দীপকের অধীনে ৩ টি প্রশ্ন (ক,খ,গ) থাকবে,যা সহজ,কঠিন ও কঠিনতর নামে পরিচিত। এ ৩টি প্রশ্নের উত্তরের জন্য যথাক্রমে ২,৪,৪ নম্বর বরাদ্ধ। সৃজনশীল অংশে কোন প্রকার থিওরী প্রশ্ন থাকবে না। তবে উত্তরে মতামত বা সিদ্ধান্ত দেয়ার জন্য থিওরী ব্যবহার করা যাবে।
হিসাবিজ্ঞানে বহুনির্বাচনি প্রশ্নের কাঠামো অন্যান্য প্রশ্নের কাঠামোর মতই। এখানে থিওরী ও গণিত উভয় অংশ থেকে প্রশ্ন থাকবে । প্রশ্নগুলো জ্ঞান,অনুধাবন,প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতা নামে পরিচিত। এই চার ধরনের প্রশ্ন মোট তিনটি স্তরে (সাধারণ,বহুপদী সমাপ্তসূচক ও অভিন্ন তথ্যভিত্তিক প্রশ্ন) উপস্থাপন করা হবে। সাধারণত জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নগুলো সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নের স্তরে করা হয়। তবে কখনো কখনো প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতার প্রশ্ন এখানে হয়ে থাকে। বহুপদী সমাপ্তসূচক প্রশ্ন করা বাধ্যতামূলক নয়। তবে প্রয়োজনে মোট প্রশ্নের ১০-১৫% প্রশ্ন করা যেতে পারে। অভিন্ন তথ্য ভিত্তিক প্রশ্নের ক্ষেত্রে একটি উদ্দীপকের অধীনে ২ টি বা ৩টি প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতার প্রশ্ন করা হয়। সে ক্ষেত্রে প্রশ্নের উত্তর উদ্দীপক ব্যবহার করেই দিতে হয়।উদ্দীপকের বাইরে উত্তর দেয়ার কোনো সুযোগ থাকে না।
গণিতের মতই হিসাববিজ্ঞান একটি প্রায়োগিক ও গাণিতিক বিষয় হওয়ায় এ বিষয়ে ভালো নম্বর পাওয়া অত্যন্ত সহজ। শিক্ষার্থীরা যদি নিন্মুক্ত বিষয় গুলোর উপর গুরুত্ব দেয় তাহলে অবশ্যই ফলাফল ভালো হবে।
সৃজনশীল অংশ:
১.যেহেতু “হিসাববিজ্ঞান পরিচিতি” অধ্যায়টি একটি থিওরিটিকাল অধ্যায় তাই এখান থেকে কোন সৃজনশীল প্রশ্ন হবে না। তবে এখান থেকে অবশ্যই বহুনির্বাচনি প্রশ্ন থাকবে। হিসাববিজ্ঞানের উত্পত্তি,উদ্দ্যেশ্য,গুরুত্ব,জবাবদিহিতাসহ অন্যান্য বিষয়ের তাত্ত্বিক অংশ ভালোভাবে দেখতে হবে।
২.লেনদেন অধ্যায়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকে একটি সৃজনশীল প্রশ্ন থাকবে। লেনদেন চিহ্নিতকরণ, কোনটি লেনদেন,কোনটি লেনদেন নয় তা আলাদাকরণ,সমীকরণ প্রস্তুতকরণ,লেনদেন থেকে ডেবিট-ক্রেডিট নির্ণয় ,চালান, ভাউচার,ডেবিট নোট,ক্রেডিট নোট ইত্যাদি বিষয়গুলোর উপর বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে।
৩.মূলধন জাতীয় ও মুনাফা জাতীয় লেনদেন ,মূলধন জাতীয় আয় ও মূলধন জাতীয় ব্যয়,মুনাফা জাতীয় আয় ও মুনাফা জাতীয় ব্যয়,বিভিন্ন লেনদেন থেকে সৃষ্ট লাভ-ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় থেকে একটি সৃজনশীল প্রশ্ন পরীক্ষায় থাকতে পারে তাই এ টপিকসগুলোর উপর চর্চা করতে হবে।
৪.“রেওয়ামিল” অধ্যায়টি তুলনামূলকভাবে অন্যান্য অধ্যায়ের চেয়ে সহজ। এখানে যে সকল দফা রেওয়ামিলে আসে না এর পরিমাণ নির্ণয় কর ,মুনাফা জাতীয় খরচের পরিমাণ ,সম্পত্তির পরিমাণ নির্ণয় কর এ টপিকস গুলোর উপর প্রস্তুতি নিতে হবে।
৫.হিসাব অধ্যায় থেকে একটি সৃজনশীল প্রশ্ন থাকবে। এখানে আধুনিক পদ্ধতি ও সনাতন পদ্ধতি উভয় প্রকার থেকেই সৃজনশীল প্রশ্ন দেয়ার সুযোগ রয়েছে। লেনদেনগুলোর মধ্যে কোনটি কোন জাতীয় হিসাব,হিসাবখাত,হিসাবের শ্রেণি নগদান হিসাব ,ব্যাংক হিসাবসহ অন্যান্য হিসাব আধুনিক বা সনাতন পদ্ধতিতে আসতে পারে।
৬.জাবেদা ও খতিয়ান অধ্যায় দু’টি একসাথে সমন্বয় করে সৃজনশীল প্রশ্ন হতে পারে। জাবেদায়-প্রারম্ভিক মলধনের পরিমাণ নির্ণয়,নগদ,অ-নগদ,ধারে লেনদেনের পরিমাণ নির্ণয় কর এবং জাবেদা দাখিলা দাও । খতিয়ান অংশ থেকে নগদান,ব্যাংক,ক্রয় ও বিক্রয়সহ অন্যান্য হিসাব প্রস্তুত করার জন্য বলা হবে। কোনো কিছু উল্লেখ না থাকলে জাবেদার ব্যাখ্যা দেয়ার দরকার নেই । খতিয়ানের ক্ষেত্রে কিছু বলা না থাকলে সবসময় চলমান জের ছকে করতে হবে।
৭.নগদ প্রাপ্তি,নগদ প্রদান,দু’ঘরা নগদান বই তোমদের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এখানে একটি প্রশ্ন জাবেদা থেকেও থাকতে পারে। তাই নগদান বই অনুশীলন করার সময় একই সাথে এ লেনদেনগুলোর জাবেদা ও অনুশীলন করতে হবে। নগদ বাট্টা,কারবারি বাট্টা ও পরিমাণ বাট্টার উপর ভালো ধারণা রাখতে হবে।
৮.“আর্থিক বিবরণি” অধ্যায় থেকে ২টি প্রশ্ন থাকবে,যার উত্তর দেয়া আবশ্যিক। এখানে একটি প্রশ্ন থাকবে উত্পাদনকারি প্রতিষ্ঠানের আর অন্যটি থাকবে সেবাদানকারি প্রতিষ্ঠানের। আবার একই প্রতিষ্ঠানের প্রশ্ন হতে পারে। এখানে নিট ক্রয়,নিট বিক্রয় ,নিট দেনাদার,অনাদায়ী দেনা ,নিট সম্পত্তি ও সমাপনী মজুদ পণ্যের পরিমাণ নিণর্য় কর এ বিষয়সহ মোট লাভ,নিট লাভ ও আর্থিক অবস্থার বিবরণি প্রস্তুত কর এমন প্রশ্ন থাকবে।
৯.জাবেদার ক্ষেত্রে ছক তৈরি করা ও জাবেদার ব্যাখা দেওয়া এমনকি যোগফল করা বাধ্যতামূলক নয়। প্রশ্নে যদি ব্যাখ্যা চায় তাহলে দিতে হবে, অন্যতায় প্রয়োজন নেই । প্রশ্নে উল্লেখ না থাকলে ছক ও ব্যাখ্যার জন্য আলাদা কোনো নম্বর বরাদ্ধ থাকে না। খতিয়ান অবশ্যই চলমান জের ছকে প্রস্তুত করতে হবে। তবে প্রশ্নে উল্লেখ থাকলে পুরাতন নিয়মে হবে।