ম্যাকেঞ্জি, ভেট্টোরিদেরও না
g স্পোর্টস রিপোর্টার
নিরাপত্তা ঝুঁকির ভয়ে পাকিস্তান সফরে যাবেন না মুশফিকুর রহিম। বিসিবিকে লিখিত জানানোর পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের সামনেও নিজের নাম প্রত্যাহার কারণ বিশদ আকারে জানিয়েছেন মুশফিক। শুধু তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ নয়, চলতি বছরে কোনো ফরম্যাটেই পাকিস্তান সফরে এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে পাবে না বাংলাদেশ।
শুধু মুশফিক নন, জাতীয় দলের অনেক কোচিং স্টাফকে পাকিস্তান সফরে পাচ্ছে না বাংলাদেশ দল। হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো আগেই জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানে দলের সঙ্গী হবেন। তবে এই সফর থেকে মুশফিকের মতোই সরে দাঁড়িয়েছেন ব্যাটিং কোচ নেইল ম্যাকেঞ্জি। প্রোটিয়া এই ব্যাটিং কোচ যাচ্ছেন না পাকিস্তানে। সঙ্গে ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুকও পাকিস্তান সফর থেকে বিরত থাকছেন।
স্পিন কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টোরিও আছেন একই তালিকায়। কম্পিউটার অ্যানালিস্ট শ্রী চন্দ্রশেখরন পাকিস্তানে যাবেন না। ভারতীয় নাগরিক শ্রী অবশ্য স্কাইপের মাধ্যমে দলের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ মারিও ভিল্লাভারায়নকে এই সফরে পাবে না বাংলাদেশ। হাতের ইনজুরিতে পড়ায় যেতে পারছেন না এই লঙ্কান কোচ। তবে ফিজিও জুলিয়ান ক্যালেফাতো উড়াল দিবেন দলের সঙ্গে।
পাকিস্তান সফরে তাই কোচিং স্টাফের পাঁচ সদস্যকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের চেয়ারম্যান আকরাম খান গতকাল এই প্রসঙ্গে ক্রিকইনফোকে বলেছেন, ‘সম্প্রতি মারিওর হাত ভেঙেছে। কম্পিউটার অ্যানালিস্ট স্কাইপের মাধ্যমে দলের সঙ্গে কাজ করবে। ম্যাকেঞ্জি ও ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুক যাচ্ছে না।’
বিসিবির কোচ সোহেল ইসলাম পাকিস্তান সফরে ফিল্ডিং কোচের ভূমিকায় থাকবেন। স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ হিসেবে যাবেন বিসিবির ট্রেনার তুষার কান্তি হাওলাদার। এছাড়া বোলিং কোচ হিসেবে চম্পকা রমানায়েকে যাবেন পাকিস্তান সফরে।
পাকিস্তান সফরে যেতে পরিবারের সম্মতি পাননি মুশফিক। শুক্রবার রাতে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘আমি আগেই বলে দিয়েছি আমি যাব না। এটা আমার পারিবারিক কারণ। আমি অনুরোধ করেছি এবং এটা তারা মেনে নিয়েছে। আমি অফিসিয়াল লেটারও দিয়েছি। পাকিস্তানেই যাচ্ছি না।’
নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত মুশফিকের পরিবার। তিনি বলেছেন, ‘তারা ভয়ে শঙ্কিত। এভাবে ম্যান্টালি আমি গিয়ে খেলতে পারি না।’
আন্তর্জাতিক সিরিজ থেকে বিশ্রাম নেওয়ার চিন্তা নেই মুশফিকের। পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণেই সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। তবে আগামী দুই-তিন বছরে পরিস্থিতির উন্নতি হলে পাকিস্তানে যাবেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। মুশফিক বলেছেন, ‘আমাকে যদি বলেন বাংলাদেশের একটা সিরিজ থেকে বিশ্রাম নিতে হবে। এটার চেয়ে বড়ো পাপ হতে পারে না। আমার কাছে কিন্তু সুযোগও ছিল পিএসএলের মতো বড়ো আসরে খেলার। আমি কিন্তু শুরুতেই না করে দিয়েছি। কারণ আমি জানি এবার পুরো আসর পাকিস্তানে হবে। আমি তখনই বলেছি, এখানে যেহেতু আমার পরিবার অনুমতি দিচ্ছে না। আমি যেতে পারি না। জীবনের আগে কখনোই ক্রিকেট না।’
শুক্রবার বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ফাইনালে রাজশাহী রয়্যালসের কাছে ২১ রানে হেরেছিল মুশফিকের খুলনা টাইগার্স। এত কাছে এসেও ট্রফির নাগাল পাননি তিনি। তবে হতোদ্যম না হয়ে আগামী শিরোপা জয়ের আশা করছেন মুশফিক। বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক বলেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ কোনো বার ফাইনাল খেলতে পারিনি। এবার ফাইনাল তো খেললাম। পরবর্তীতে হয়তো বা চ্যাম্পিয়ন হতে পারব।’