আবীর বসাক
প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। পরিচিত নারিকেল জিঞ্জিরা হিসেবেও। যেদিকেই চোখ যায় সেদিকে শুধুই নীলাভ স্বচ্ছ জলরাশি। যেন হারিয়ে যেতে মন চায়। মন ভোলানো রূপের জাদুতে আচ্ছন্ন করে রাখে সবাইকে! আর সেই মায়াবী রূপেরই দেখা পেতে বন্ধুরা মিলে যাত্রা শুরু করেছিলাম এক বিকেলে। ভোরের কুয়াশা কেটে যখন টেকনাফে পৌঁছলাম ঘড়িতে তখন সকাল সাতটা ছুঁইছুঁই। নাফ নদীর বুক চিরে সমুদ্রযান ধীরে ধীরে এগুতে থাকে প্রবাল দ্বীপের দিকে। নদীর একদিকে যেমন সবুজে ঘেরা বিশাল পাহাড়, তেমনি অন্যদিকে মিয়ানমার সীমান্ত। আর জাহাজের পিছুপিছু ঝাঁকবাঁধা গাঙচিলের দল তো আছেই। ঘণ্টা দুয়েক পর অবশেষে দেখা পেলাম কাঙ্ক্ষিত সেই দ্বীপের। প্রকৃতি অপরূপ সাজে সেজেছে এখানে। সৈকতে সারি সারি বাঁধা মাছ ধরার ট্রলার। চারদিকেই নারিকেলগাছ আর অসংখ্য কোরালের ছড়াছড়ি। নিসর্গ আর প্রকৃতির অপূর্ব মিশেলে যেন গড়ে উঠেছে সৌন্দর্যের লীলাভূমি সেন্টমার্টিন।
ভ্রমণ মৌসুম থাকায় সৈকতজুড়ে শুধুই দেশি-বিদেশি পর্যটকের ঢল। এক মুহূর্ত দেরি না করে সবাই নেমে পড়ি নীল পানিতে। ইচ্ছেমতো সাঁতার কাটা, লোনাজলে লাফালাফিতে মত্ত থাকি অনেকটা সময়। সেলফিবাজ বন্ধু জাহিদের খুনসুটিপনা আর বংশীবাদক মানিকের গায়কীতে ভ্রমণটা হয়ে ওঠে আরো জম্পেস। আড্ডার এক ফাঁকে জমে ডাবের পানিতে গলা ভেজানো, সৈকতে ঝিনুক কুড়ানো, কাঁকড়াদের আঁকিবুঁকি অবলোকন পর্বও। এ দ্বীপের সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত কিংবা চাঁদনি রাতে সাগরের তীব্র গর্জন মনের ভেতর সৃষ্টি করে অপ্রকাশ্য ভালো লাগার অনুভূতি। বাদ যায়নি স্নিগ্ধ ভোরে ছেঁড়াদ্বীপে ছোটা, কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের বাড়ি ‘সমুদ্র বিলাস’ দেখাও। সবমিলিয়ে যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততাকে ভুলে কয়েকটা দিন হারিয়ে গিয়েছিলাম অন্য এক জগতে।