চট্টগ্রামে সিটি করপোরেশন নির্বাচনই আলোচিত বিষয়

সালাহউদ্দিন মো. রেজা, চট্টগ্রাম অফিস

চট্টগ্রামের রাজনীতিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনই সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। আগামী মার্চ মাসে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনার বিষয়ে ইতিমধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আভাস দিয়েছেন। সে হিসেবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই চট্টগ্রাম সিটির নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।

২০১৫ সালে ঢাকার দুটি অংশের সাথে চট্টগ্রাম সিটির নির্বাচন হয়েছিল। কিন্তু চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলররা দেরিতে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ায় আগামী জুলাই পর্যন্ত তাদের মেয়াদ রয়েছে বলে জানা যায়।

প্রায় ২৬ বর্গ মাইলের ৪১টি ওয়ার্ড নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকা। তবে এর ১নং পাহাড়তলী ওয়ার্ডের অংশ বিশেষ চট্টগ্রাম জেলায় পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর দাবির পরও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পুরো এলাকা এখনো শহুরে পরিবেশের আদলে পরিপূর্ণভাবে গড়ে উঠেনি। গ্রামীণ অবকাঠামো এখনো অনেক স্থানে বিরাজমান রয়েছে। আবার মূল শহর এলাকায় উন্নয়ন ও অপরিকল্পিত নগরায়ন হিসেবে ব্যাপ্তি লাভ করেছে। তাই চট্টগ্রাম বিমান বন্দর থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত একটি প্রধান সড়ক ঘিরেই নগরীর বিস্তৃতি ঘটেছে। চট্টগ্রাম সিটির মেয়র পদের জন্য ইতিমধ্যে অনেকে চেষ্টা-তদ্বির চালাচ্ছেন। এক্ষেত্রে সরকারি দল হিসেবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ বেশি পরীলক্ষিত হচ্ছে। মাঠের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।

মেয়র পদের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দীর্ঘ তালিকা লক্ষ্যণীয়। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কেউ কেউ রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। অনেকে আবার দলীয় পদ-পদবীতে উজ্জ্বল না হলেও ব্যক্তি হিসেবে এবং সামাজিক অবস্থানের কারণে ব্যাপকভাবে আলোচিত। মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে ব্যাপকভাবে আলোচনায় না থাকলেও শেষ মুহূর্তে মেয়র প্রার্থী হিসেবে যে কেউ মনোনয়ন পেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কারণ সকল ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করবে।

আওয়ামী লীগের মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন এবং নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম। এছাড়া আওয়ামী লীগের দলীয় পদ-পদবীতে না থাকলেও আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মাহবুবুল আলম তালুকদার।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র মঞ্জুর আলম মঞ্জু। তিনি বিগত ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী সময় বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের মহিউদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে জয়লাভ করেন। মঞ্জুর আলম বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পূর্বে আওয়ামী লীগ নেতা ও একাধিকবার নির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিলেন। বিগত মেয়র নির্বাচনে পুনরায় বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আ জ ম নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কিন্তু নির্বাচনের দিন কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করেন এবং একই সাথে আর রাজনীতি না করার ঘোষণা দেন। অবশ্য এরপর ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে মঞ্জুর আলম পুনরায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।

সরকারের শিক্ষা উপমন্ত্রী এবং সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল সম্প্রতি সম্মেলনে দলীয় কোন পদ-পদবী না পাওয়ায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। তিনি বিগত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। অনেকের ধারণা দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে আলোচনা না থাকা যে কাউকে চট্টগ্রাম সিটি মেয়রের মনোনয়ন প্রদান করলে অবাক হবার কিছু নেই।

চট্টগ্রাম সিটি কপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ন্যায় বিএনপিরও একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী ব্যাপক আলোচনায় রয়েছেন। দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর এবং সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এরশাদ উল্লাহ। এর বাইরে কারাগারে থাকা বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী লায়ন আসলাম চৌধুরী।