৪৮ বছর আগে নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান

এ যেন চলচ্চিত্রের মতো কাহিনী। ঘরে স্ত্রী ও চার পুত্র সন্তান। সবচেয়ে ছোটো ছেলের বয়স ৪০ দিন পেরোয়নি—এমন সময় পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি হঠাত্ নিখোঁজ। স্বজনকে খুঁজে পাওয়ার আর্তনাদ পুরো এলাকায়। মুক্তিযুদ্ধ শেষে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ যখন নতুন করে গড়ার সংগ্রাম চারদিকে, তখন একটি পরিবারে স্বজন হারানোর হাহাকার। সুদর্শন টগবগে এক যুবকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সর্বত্র তোলপাড়। কোথাও খোঁজ নেই তার। পরিবারের সদস্যরা পির-ফকির, কবিরাজ—অনেকের কাছে গেছেন তার সন্ধান চাইতে। তবুও খোঁজ মেলেনি। সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর আশা ছেড়ে দেন পরিবারের সদস্যরা। নিখোঁঁজ ব্যক্তি হয়তো আর জীবিত নেই—এই ভেবে পরিবারের সদস্যরা তার মাগফিরাত কামনায় কুলখানির আয়োজনও করেন।

তবে সবকিছু মিথ্যা প্রমাণ করে হঠাত্ সন্ধান মেলে ৪৮ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া সেই হাবিবুর রহমানের। বয়স এখন তার ৮০-এর কাছাকাছি। ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের কোনো একদিন হঠাত্ নিখোঁজ হন তিনি।

হাবিবুর রহমানের নাতি কেফায়েত হোসেন জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে তার দাদা সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আছেন বলে জানতে পারেন। এরপর তারা দ্রুত সেখানে গিয়ে তাকে শনাক্ত করেন। কেফায়েত জানান, তিন-চার দিন আগে তাকে হাসপাতালে অজ্ঞাত রোগী হিসেবে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে তার ছবি দিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন বিয়ানীবাজারের জনৈক ব্যক্তি। এটি কিছু সময়ের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়।

এদিকে, দীর্ঘ ৪৮ বছর পর নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান পাওয়ায় বিয়ানীবাজার উপজেলা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি যেখানে চিকিত্সাধীন সেখানে তাকে একনজর দেখতে ভিড় করছে উত্সুক জনতা। বর্তমানে সিলেট নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আছেন হাবিবুর রহমান। তাকে ঘিরে পরিবার ও স্বজনদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করার মতো।