পৌষমেলায় গাঙ্গি ঘোড়দৌড়

‘চে... লে... লে... লে... ঢুই, চে... লে... লে... লে... ঢুই... ঢুই’—ধ্বনিতে রবরব করে পুরো প্রাঙ্গণ। প্রতিদ্বন্দ্বী খুঁজতে গাঙ্গি বীরের এমন হাঁক-ডাক বাচ্চা থেকে শুরু করে সবার কাছেই পরিচিত। যাদের সাহস আছে তারাই নেমে পড়েন লড়াইয়ে। যে এগিয়ে যাবে তার সঙ্গেই চলে ওই গাঙ্গি বীরের গাঙ্গি খেলা। ৩ মিনিটের গাঙ্গি খেলায় যিনি জয়ী হন তাকে নিয়ে হাত ধরে আবারো একইভাবে হাঁক ছেড়ে খোঁজা হয় পরবর্তী প্রতিদ্বন্দ্বীকে। এভাবে একের পর একজন গাঙ্গি বীরের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে নির্ধারিত হয় গাঙ্গি খেলার চূড়ান্ত বিজয়ী। এই গাঙ্গি খেলা কোথাও কুস্তি আবার কোথাও বলি খেলা নামে পরিচিত। তবে শেরপুরে পৌষমেলার প্রধান আকর্ষণ এ গাঙ্গি খেলা।

শেরপুর শহরের নবীনগর ছাওয়াল পীরের দরগার মাঠে পৌষের শেষদিকেই (১০ জানুয়ারি) বসে ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা। নবীনগর এলাকাবাসীর উদ্যোগে প্রতিবছরের মতো এবারো এ পৌষমেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী গাঙ্গি খেলা ছাড়াও ঘোড়দৌড়, সাইকেল চালানো প্রতিযোগিতা, তৈলাক্ত কলাগাছে ওঠা এবং বিবাহিত-অবিবাহিত ভলিবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া সাইকেল রেস, মিউজিক্যাল চেয়ার, র্যাফেল-ড্র সহ নানা ধরনের খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

ইংরেজি নতুন বছরের প্রথমদিন থেকেই সবাই অপেক্ষায় থাকেন এ উত্সবের। এ ছাড়াও সেখানে মেলা বসে। মেলায় শিশুদের জন্য বিভন্ন ধরনের খেলনা, মাটির তৈরি হাঁড়ি, পাতিল, পুতুল, মেয়েদের প্রসাধনীসহ নানা ধরনের মুখরোচক খাবারের দোকান সাজিয়ে বসেন পসারিরা। মেলা উপলক্ষে গ্রামের ঘরে ঘরে চলে পিঠা-পায়েস খাওয়ার ধুম পড়ে। মেলায় গ্রামের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজার হাজার নারী-পুরুষ ভিড় জমান। রাতে এ উপলক্ষে দরগাহ প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় বাউল গানের আসর।

ছাওয়াল পীরের দরগার মেলাটি কয়েকশ’ বছর ধরে চলে আসছে তা কেউ সঠিকভাবে বলতে পারেন না। আগে পৌষসংক্রান্তির দিন মেলা বসতো। রাতভর চলতো মুর্শেদি, মারফতি ও বাউল গানের আসর। উল্লেখ্য, ছাওয়াল পীরের কবরটি উত্তর-দক্ষিণ নয়, পূর্ব-পশ্চিমমুখী।