শীতের বৃষ্টিতে জবুথবু উত্তরের জনপদ

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী

মাঘের বৃষ্টিতে রবিবার দুর্ভোগে পড়েছে রাজশাহীর কর্মজীবী মানুষ। ফুটপাতে যারা হরেক রকমের শীতের কাপড় খোলা আকাশের নিচে বিক্রি করছিলেন তাদের দুর্ভোগ আরেকটু বেশিই। বৃষ্টির কারণে তাদের তড়িঘড়ি দোকান গুটিয়ে নিতে হয়েছে।

আগের দিন শনিবার সকাল থেকেই আকাশে ছিল ঝলমলে রোদ। তাপমাত্রা বেড়েছিল, কমছিল শীতের তীব্রতাও। কিন্তু রবিবার ভোর থেকে রাজশাহীর আকাশে ঘন কুয়াশা। কমে যায় তাপমাত্রা। সকাল ১০টার দিকে বৃষ্টি শুরু হয়। এতে পদ্মাপাড়ের মানুষের জীবনে দুর্ভোগ নেমে আসে। রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের সহকারী পর্যবেক্ষক আনোয়ারা খাতুন জানান, রবিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত রাজশাহীতে ২ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। সকালে রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে।

তিনি আরো জানান, গত ৬ জানুয়ারি রাজশাহীতে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১৫ জানুয়ারির পর তাপমাত্রা একটু একটু করে বাড়ছিল। তবে এখন বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা আর বাড়বে না। ফলে বাড়তে পারে শীতের তীব্রতা।

রংপুর অফিসের স্টাফ রিপোর্টার জানান, মাঘের শুরুতেই রংপুরে কিছুটা তাপমাত্রা বেড়েছে। কমেছে শীতের দাপট। তবে সূর্যের লুকোচুরি আর হিমেল হাওয়ায় এখনো রয়েছে ভারী শৈত্যপ্রবাহের আভাস। সঙ্গে বজ সহ বৃষ্টি হওয়ারও সম্ভাবনা।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সোমবার রংপুরের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রবিবার ভোর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা পড়েছে। তবে রংপুর বিভাগে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। সন্ধ্যা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

রবিবার রংপুর বিভাগে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। সেখানে সকাল ৯টায় ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী সংবাদদাতা জানান, দিনভর ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার সঙ্গে বিকালের গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে জেঁকে বসেছে শীত। কাঁপছে মানুষ। স্থবির জনজীবন। রবিবার কুয়াশার চাদরে ঢাকা ছিল সারাদিন। সূর্যের দেখা না মেলেনি। দিনব্যাপী হিমেল হাওয়া শরীরে কাঁপন ধরায়। বিকালের দিকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়।

চিলমারী সংবাদদাতা জানান, চিলমারীতে কনকনে ঠান্ডা হীমেল হাওয়ার সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে রবিবার সারাদিন সূর্যের দেখা মেলেনি। ঘন কুয়াশার ফলে নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় চরাঞ্চলের মানুষ উপজেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যেতে পারছে না। দীর্ঘমেয়াদি শৈত্যপ্রবাহে বোরো বীজতলা লালচে ও হলদে বর্ণ ধারণ করেছে। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোতে যানবাহন হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে।