বিশ্ব ইজতেমায় মানবতার কল্যাণ ও শান্তি কামনা

বিশ্বের মুসলমানদের নিরাপত্তা, মুক্তি এবং ইহ ও পারলৌকিক কল্যাণ ও শান্তি কামনায় আকুতি-মিনতিপূর্ণ মোনাজাতের মধ্যদিয়ে গতকাল রবিবার শেষ হয়েছে তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন দিল্লি নিজামুদ্দিন মারকাযের মুরুব্বি মাওলানা জামশেদ।

বেলা ১১টা ৪৯ মিনিটে শুরু করে ১৭ মিনিট স্থায়ী আবেগঘন আখেরি মোনাজাতে অযুতকণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে আল্লাহর মহত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব। মনিব-ভৃত্য, ধনী-গরিব, নেতা-কর্মী নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশা-গোষ্ঠীর মানুষ আল্লাহর দরবারে দুহাত তুলে নিজ নিজ কৃতকর্মের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। মুঠোফোনে, রেডিও এবং স্যাটেলাইট টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের সুবাদে দেশ-বিদেশের আরো লাখ লাখ মানুষ এক সঙ্গে হাত তুলেছেন পরওয়ারদিগারের শাহি দরবারে। প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা চেয়ে    কান্নায় বুক ভাসিয়েছেন অনেকে। দেশের ৬৪ জেলার লাখ লাখ মুসল্লি ছাড়াও বিশ্বের ৫৯টি দেশের ৩ হাজার ৪২৪ জন তাবলিগ অনুসারী মুসল্লি আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন। এতে আগের তুলনায় নারীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। মাওলানা জামশেদ প্রথম ৫ মিনিট মূলত পবিত্র কোরআনে বর্ণিত দোয়ার আয়াতগুলো উচ্চারণ করেন। শেষ ১২ মিনিট তিনি উর্দু ভাষায় দোয়া করেন।

মোনাজাতে মুসল্লিদের ঢল : বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণকারীরা ছাড়াও কেবলমাত্র আখেরি মোনাজাতে শরিক হতে দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লি­গণ বাস, ট্রাক, মিনিবাস, কার, মাইক্রোবাস, ট্রেনে করে টঙ্গীতে পৌঁছে অবস্থান নিতে শুরু করেন। ভোর ৪টা থেকে টঙ্গীমুখী সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় দীর্ঘ পথ হেঁটে টঙ্গী পৌঁছতে হয়েছে লাখ লাখ মানুষকে। কয়েক লাখ মানুষ রাতেই ইজতেমার মাঠ ও আশপাশের বাসা-বাড়ি, ভবন, ভবনের ছাদ এবং করিডোরে এমনকি গাছতলায় অবস্থান নেন।

আরো দুই মুসল্লির মৃত্যু : টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে শনিবার বিকাল থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত আরো দুই মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন—নোয়াখালী জেলার হাতিয়া থানার আজিমনগর গ্রামের মৃত-মফিজুল ইসলামের ছেলে মনির উদ্দিন (৪০) ও গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দপুর থানার চাঁদপাড়া গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে শাহ আলম (৫৫)। এ নিয়ে দ্বিতীয় পর্বে ইজতেমা ময়দানে ৯ জন মুসল্লির মৃত্যু হলো।

ভোগান্তি : আখেরি মোনাজাত শেষ হওয়ার পরপরই বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেওয়া মানুষ একযোগে নিজ নিজ গন্তব্যে ফেরা শুরু করেন। এতে টঙ্গীর আশপাশের সড়ক-মহাসড়কগুলোতে সৃষ্টি হয় তীব্র জনজট ও যানজট। ফলে বাধ্য হয়েই পায়ে হেঁটে রওনা দেন অনেকে। 

বিশ্ব ইজতেমার আয়োজক কমিটির একাংশের মুরুব্বি হারুন-অর-রশিদ জানান, আমরা আগামীতে দুই পর্বে ইজতেমা পালন করব। বিশ্ব ইজতেমার প্রথমপর্ব আগামী ২৫, ২৬ ও ২৭ ডিসেম্বর- ২০২০ এবং মাঝে চারদিন বিরতি দিয়ে ১, ২ ও ৩ জানুয়ারি-২০২১ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে চলতি বছরের ১৩-১৭ নভেম্বর টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানের পাঁচ দিনব্যাপী জোড় অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে তাবলিগের শীর্ষ মুরুব্বিদের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল দুপুর পর্যন্ত ময়দান থেকে দেশি-বিদেশি প্রায় ২ হাজার ৫০০ জামাত দেশ-বিদেশের দাওয়াতি কাজে বেরিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন ইজতেমা ময়দানের গণমাধ্যম সমন্বয়কারী মো. সায়েম।