যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসনের জোর দাবি জানিয়েছেন বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অভিশংসন করা উচিত বলে তারা বলেছেন। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আইনজীবীরা অভিশংসনের উদ্যোগকে ‘গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক হামলা’ এবং ‘বেআইনি’ বলে উল্লেখ করেছেন। খবর বিবিসির
ডেমোক্র্যাটরা কী বলছেন?
অভিশংসনের বিচারে হাজির করার জন্য ডেমোক্র্যাটরা ১১ পৃষ্ঠার যুক্তিতর্কের সারসংক্ষেপ জমা দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, ‘আমেরিকার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আরো গুরুতর ও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে ট্রাম্পকে অভিশংসন করা উচিত। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ খুব সাধারণ এবং তথ্য-প্রমাণ অকাট্য। এখন একমাত্র প্রশ্ন হলো সিনেটের সদস্যদের ওপর অর্পিত সাংবিধানিক দায়িত্ব তারা যথাযথভাবে পালন করবেন কি না। শনিবারে ডেমোক্রেটিক দলীয় সদস্যরা যে অভিশংসনের কাগজপত্র জমা দিয়েছেন তাতে ট্রাম্পকে কেন অভিশংসিত করা উচিত সে সম্পর্কে তাদের বক্তব্য, ‘বিশ্বস্ততার সঙ্গে আইন কার্যকর এবং নিজের দায়িত্ব পালনে প্রেসিডেন্ট যে শপথ নিয়েছেন, তা তিনি ভঙ্গ করেছেন’ এবং তিনি ‘জনগণের বিশ্বাস ভেঙেছেন’। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের আচরণকে দেশটির প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতির ‘সবচেয়ে খারাপ দুঃস্বপ্ন’ বলে মন্তব্য করেছেন তারা।
ট্রাম্পের আইনজীবীরা যা বলছেন
বিচারে হাজির করার জন্য প্রেসিডেন্টের আইনজীবী দল ছয় পৃষ্ঠার এক সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করেছে। হোয়াইট হাউজ কাউন্সেল প্যাট সিপোলোনি এবং ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী জে সেকুলোর নেতৃত্বে প্রেসিডেন্টের আইনজীবী দল জানিয়েছে, অভিশংসন প্রস্তাবকে সাংবিধানিক এবং পদ্ধতিগত দুইভাবেই মোকাবেলা করা হবে। তাদের বক্তব্য, প্রেসিডেন্ট ভুল কিছু করেননি এবং তাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। ডেমোক্রেটিক দলের উপস্থাপিত ইমপিচমেন্ট আর্টিকেলকে ‘আমেরিকার জনগণের পছন্দের প্রেসিডেন্ট বেছে নেওয়ার অধিকারের ওপর বিপজ্জনক হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছে এই দল। একই সঙ্গে একে ২০২০ সালের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের শামিল বলেও মনে করেন তারা। ট্রাম্প ও তার আইনজীবী দলের অভিযোগ, ইমপিচমেন্ট চার্জ প্রেসিডেন্টের ‘দোষ’ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। মাত্র এক দিন আগে ট্রাম্প তার আইনি দলে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের অভিশংসন তদন্তে অংশ নেওয়া বিশেষ কৌঁসুলি কেন স্টার ও রবার্ট রে’কে নিয়োগ দেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ট্রাম্পের ফাঁস হওয়া ফোনালাপে দেখা যায়, সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার ছেলে হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে রীতিমতো চাপ দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট। ঐ ফোনালাপের ভিত্তিতে গোয়েন্দা সংস্থার একজন সদস্য আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার পর ট্রাম্পের অভিশংসনের দাবি সামনে আসে। ডেমোক্র্যাটনিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে তিনি অভিশংসিত হন।