মাঠে জমজমাট অনুশীলন চলছে। এদিকে পাকিস্তান সফরের জোরদার প্রস্তুতিও চলছে। পাকিস্তানে নিরাপত্তা কেমন থাকবে, তা নিয়ে রোজ নানারকম খবর আসছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আবার ভাবছে, ভাড়া করা বিশেষ বিমানে পাকিস্তান নেওয়া হবে খেলোয়াড়দের।
তবে মাঠের বাইরের এসব বিষয় নিয়ে ক্রিকেটাররা একদমই ভাবছেন না বলে দাবি করলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। গতকাল অনুশীলনের আগে তিনি বলছিলেন, তার এমার্জিং দলের হয়ে পাকিস্তান সফরের অভিজ্ঞতা ভালো। তাই তারা ক্রিকেট নিয়েই ভাবতে চান, ‘এগুলো নিয়ে আসলে চিন্তা করছি না। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে খেলাটাকেই ফোকাস করছি। যেহেতু এগুলো আমাদের হাতে নেই, এগুলো নিয়ে চিন্তা করছি না। একবারও ভাবিনি। যেহেতু গতবারও আমি গিয়েছি সেখানে। তো এগুলো নিয়ে একদমই চিন্তা করছি না। ম্যাচ ফোকাস করছি।’
শান্ত বরং নিজের খেলাটা নিয়েই বেশি ভাবতে চান। তিনি বলছিলেন, বিপিএলের শেষ কয়েকটা ম্যাচের কারণে তার আত্মবিশ্বাস খুব ভালো অবস্থায় আছে, ‘শেষের কয়েকটা ম্যাচ ভালো গেছে বিপিএলের। আলহামদুলিল্লাহ। তাই আত্মবিশ্বাস আছে। তাই ওই অনুযায়ী সেই আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে পারি, তাহলে ওখানেও ভালো করা সম্ভব ইনশাআল্লাহ্?।’
শান্ত মনে করেন, আগের চেয়ে তিনি অনেক পরিণত হয়েছে। তার বিশ্বাস তৈরি হয়েছে যে, এই টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও তিনি রান করতে পারেন, ‘আমার কাছে মনে হয় যে মানসিকতায় পরিবর্তন এসেছে অনেক। মেন্টালিটিতে পরিবর্তন আসছে অনেক। বিশ্বাস আসছে যে এই ফরম্যাটেও রান করা সম্ভব। যেহেতু প্রথমে কয়েকটি ম্যাচ রান করিনি, আত্মবিশ্বাসে একটু অভাব ছিল। তো মেন্টালি ওভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি যে আমি এই ফরম্যাটেও রান করতে পারি। নিজের মধ্যে বিশ্বাস আনার চেষ্টা করেছি। তো এটা আসার কারণে শেষের কয়েকটি ম্যাচে রান হয়েছে।’
শান্ত ঘরোয়া ক্রিকেট বা বিপিএলে রান পেয়ে থাকেন টপ-অর্ডারে। কিন্তু জাতীয় দলে তাকে খেলতে হয় নিচের দিকে। শান্ত বলছিলেন, জাতীয় দলের স্বার্থে তিনি যে কোনো জায়গায় খেলতে রাজি আছেন, ‘সাধারণত আমি টপ-অর্ডারে খেলি। ওখানে নামলে তো অবশ্যই ভালো। যেটা আমি বললাম, পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে যেখানে নামায় যে কোনো পজিশনে রান করা উচিত। এখন যদি চিন্তা করা যায়, বড়ো বড়ো ক্রিকেটাররা যে কোনো পজিশনে ব্যাটিং করে এবং রান করার সক্ষমতা রাখে। ওভাবেই আমি চিন্তা করছি যে, যেখানে ব্যাটিংয়ের সুযোগ আসবে, সেখানেই পারফরম করার চেষ্টা করব।’
সব মিলিয়ে শান্ত মনে করেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে তাদের ভালো করার বেশ সম্ভাবনা আছে। তবে তারা এখনই পুরো সিরিজ নিয়ে ভাবছেন না। একটা একটা করে ম্যাচ ধরে এগোতে চান। আপাতত তাই ভাবনায় প্রথম ম্যাচটাই গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানালেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে যে কোনো দল যে কোনো দিন জিততে পারে। সিরিজ নিয়ে আমরা ওভাবে চিন্তা করছি না সিরিজ নিয়ে। আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলব। প্রথম লক্ষ্য থাকবে প্রথম ম্যাচটি নিয়ে। টি-টোয়েন্টিতে যেদিন যে দল ভালো খেলে সে দলের জেতা সম্ভব। আমরা পার্টিকুলার ওই দিনকে নিয়ে ফোকাস করছি।