বুরুন্ডিকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই :জেমি

বুরুন্ডির আক্রমণ ভাগ দেখে তাদের একাধিক ফুটবলারকে ঢাকায় খেলার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ক্লাব কর্মকর্তারা। পাবেন কি পাবেন না, সেটা নিশ্চিত না। তবে বুরুন্ডির ফুটবলাররা ঢাকার দর্শকের মন জয় করেছে। আক্রমণ ভাগে তাদের খেলার স্টাইল মুগ্ধ করেছে এ কারণেই বলতে হয়, ঢাকার ফুটবল দর্শক আফ্রিকান ফুটবলারদের মানহীন পারফরম্যান্স দেখে দেখে স্বাদ তেঁতো হয়ে গেছে। বুরুন্ডির ফুটবলারদের খেলা তেঁতো জিভে নতুন স্বাদ এনেছে। দুর্ভাবনা বাড়িয়েছে বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ জেমি ডের। দুর্ভাবনা হওয়ার কারণও আছে। একদিকে স্ট্রাইকিং জোনে দুর্বলতা ছিল সেটি যেমন কাটিয়েছে ঠিকই তবে দুর্ভাবনা হচ্ছে রক্ষণভাগ নিয়ে। এমনিতেই রক্ষণে খেলোয়াড় সংকট। তার ওপর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ডিফেন্ডার তপু বর্মণকে হারাতে হয়েছে। দুই হলুদ কার্ডে লাল কার্ড পেয়ে তপু এখন সেমিফাইনালের দর্শক। জেমি বলছেন, তিনি যেভাবেই হোক রক্ষণটা পরিকল্পনার আঁচল দিয়ে ঢেকে রাখবেন।

শ্রীলঙ্কাকে ০-৩ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠা বাংলাদেশ ফুটবল দল গতকাল ছুটি কাটিয়েছে। বৃহস্পতিবার সেমিফাইনাল খেলবে বুরুন্ডির বিপক্ষে। খেলোয়াড়দের ছুটি দেওয়ায় তারা অনেকেই কাল এখানে-সেখানে গিয়েছিলেন। সোনারগাঁও হোটেলরুম থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে। দুপুরের খাবারের পর বিশ্বনাথ যাচ্ছিলেন তার ক্লাব বসুন্ধরা কিংসে, অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া এপেক্স কোম্পানির একটি বিজ্ঞাপনী কাজে যাওয়ার জন্য গাড়ির অপেক্ষায় লবিতে, মামুনুল ইসলামকে দেখা গেল বাইরে থেকে হোটেলে ঢুকছেন, মতিন মিয়া সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলায় ব্যস্ত। কোচ জেমি ডে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে বললেও হোটেলরুমই ছিল সময় কাটানোর জায়গা। কোথায় যেতে রাজি না। সেমিফাইনাল নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন—কীভাবে বুরুন্ডিকে উতরে যাবেন।

স্ট্রাইকিং জোনে ফিনিশিংয়ের অভাব ছিল। কোচ জেমি ডে বলছিলেন ফিনিশার নেই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মতিন মিয়ার জোড়া গোলে কিছুটা আস্থা পাচ্ছেন জেমি। কিন্তু রক্ষণ নিয়ে কী করবেন। বুরুন্ডির আক্রমণ শক্তিশালী। বুরুন্ডি দুই খেলায় সাত গোল করেছে। জেমি ডে রাকঢাক না করে বলছিলেন,‘দলে যা কিছু আছে, তা নিয়েই একটা লাইনআপ দাঁড় করাবেন তিনি।

টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগে এই কোচ বলেছিলেন তিনি আগে সেমিফাইনালে উঠতে চান। সেটি হয়ে গেছে। কোনো আফ্রিকান দেশের সঙ্গে খেলতে যাচ্ছে। কোচ একটা অভয় দিচ্ছেন তার খেলোয়াড়দের। টোটকা আবিষ্কার করেছেন তিনি। আর তা হচ্ছে বাংলাদেশের সবারই আফ্রিকান খেলোয়াড়দের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এটা কাজে লাগাতে খুব একটা অসুবিধা হবে না। বুরুন্ডিকে ভয় পাওয়ারও কিছু নেই—বলছেন জেমি।

বুরুন্ডির বিপক্ষে বাংলাদেশকে ফেভারিট মনে করছেন না কোচ জেমি। পরিষ্কার বলে দিয়েছেন সেমিফাইনালে বুরুন্ডি ৬০ ভাগ এবং বাংলাদেশ ৪০ ভাগ এগিয়ে। তিনি বলেছেন, ‘বুরুন্ডি ফেভারিট, তারা বাংলাদেশের চেয়ে আক্রমণে যেমন শক্তিশালী তেমনি শারীরিক সামর্থ্যের বিচারেও এগিয়ে বুরুন্ডি। আমাদেরকে এই জায়গাগুলো জয় করতে হবে।’